ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে যেভাবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সংকটের মুখে ইসরায়েল
মেলবোর্ন, ১৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণার পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন…
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভিসানীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। সব ধরনের ভিসাপ্রত্যাশীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ করতে এবং গত পাঁচ বছরের অ্যাকাউন্টের তথ্য ভিসা আবেদনের সঙ্গে দিতে বলেছে বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে এফ, এম ও জে শ্রেণির নন-ইমিগ্রান্ট ভিসাপ্রার্থীদের জন্য এ নিয়ম ঘোষণা করেছে দূতাবাসগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই ও প্রবেশের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে এই তথ্য প্রয়োজনীয়।
কেন নজরদারি বাড়ানো হলো
২০১৯ সাল থেকেই মার্কিন ভিসা প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি এই নজরদারি আরও কঠোর হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে আইসিই অভিযান, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ দমন এবং ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিদেশি নাগরিকদের উপর বাড়তি সতর্কতার প্রেক্ষাপটে এই কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।
মূলত, আবেদনকারীর রাজনৈতিক অবস্থান, সংস্কৃতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও উগ্র মতামত পর্যবেক্ষণ করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কোন কোন মাধ্যমে বেশি নজরদারি
রেডিট, টাম্বলার, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার), লিংকডইন, ইউটিউব, ফেসবুক, থ্রেডস, ব্লুস্কাইসহ টিকটক ও উইচ্যাটের মতো চীনা প্ল্যাটফর্মের তথ্যও জমা দিতে হবে। শুধু পোস্ট নয়, লাইক, মন্তব্য, ট্যাগ করা ছবি বা ভিডিওসহ অনলাইন কার্যক্রমের প্রতিও নজরদারি করা হবে।
নজরদারি এড়ানোর উপায় আছে কি?
আবেদনকারীরা সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলতে পারেন। অ্যাকাউন্ট ডিলিটও করতে পারেন, তবে তাতে আগের ডেটা পুরোপুরি মুছে যায় না। কারণ, অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীর তথ্য কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে।
কতদিন অ্যাকাউন্ট পাবলিক রাখতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও নিরাপত্তার জন্য ভিসা আবেদন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পর্যন্ত সময়টুকু খোলা রাখা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আইনসম্মত কিনা
আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্র ভিসাপ্রার্থীদের ওপর এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে না, তবে শর্ত না মানলে ভিসা প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে বা ভিসা নাও পেতে পারেন আবেদনকারী।
ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের (ইএফএফ) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সোফিয়া কোপ বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করে এবং বাকস্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে এটি নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au