মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ জুলাই-
আরও সাতটি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক হার আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৯ জুলাই) তিনি ফিলিপাইন, ব্রুনেই, মলডোভা, আলজেরিয়া, ইরাক, লিবিয়া ও শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। এর আগে সোমবার আরও ১৪টি দেশের জন্য নতুন শুল্কের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ফলে চলতি সপ্তাহেই মোট ২১টি দেশের ওপর নতুন পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প জানান, ফিলিপাইনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২০ শতাংশ, ব্রুনেইয়ের পণ্যে ২৫ শতাংশ, মলডোভার পণ্যে ২৫ শতাংশ, আলজেরিয়ার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ইরাকের পণ্যে ৩০ শতাংশ, লিবিয়ার পণ্যে ৩০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় শুল্ক কমানো হলেও, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ হারে শুল্ক বজায় রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই ২১টি দেশের জন্য নতুন শুল্ক হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই হার পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর।
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ‘প্রতারণা’র শামিল। যদিও অর্থনীতিবিদদের বড় একটি অংশ এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। অনেক দেশই তুলনামূলকভাবে ছোট অর্থনীতির, আর তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির অঙ্কও খুব বড় নয়। যেমন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মলডোভার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল মাত্র ৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হারগুলো মূলত গত ২ এপ্রিল ঘোষিত ‘স্বাধীনতা দিবসের’ শুল্কের ধারাবাহিকতায় এসেছে, যদিও এবার কিছু ক্ষেত্রে হার কমানো হয়েছে। সেই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প সেই সময় শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছিলেন। সেই অবকাশের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল গতকাল বুধবার, তবে সোমবার নতুন নির্বাহী আদেশে শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময়সীমা আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত পিছিয়ে দেন তিনি।
ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, ১ আগস্টের সময়সীমা আর পরিবর্তন হবে না এবং এর পরে আর সময় বাড়ানো হবে না।
সোমবার যেসব দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, লাওস, মিয়ানমার, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, সার্বিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ মার্কিন বাণিজ্যনীতিতে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিরই অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স