ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ান ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাস স্টপে বসে আছেন মহিলারা; ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই-
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহ রাত পার করার পরও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মানুষ সকাল হলে ফের নিজের রুটিনে ফিরছে। একের পর এক হামলার মধ্যেও তিন মিলিয়ন মানুষের এই শহর যেন লড়াই আর দৈনন্দিনতার মধ্যে সমতা খুঁজে নিচ্ছে।
সম্প্রতি এক রাতে কিয়েভের আকাশে প্রায় ৪০০ ড্রোন ও ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রাশিয়ান বাহিনী। এতে দু’জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া শহরের চিত্র রাতের আঁধারে ভীতিকর হলেও ভোরের আলোয় সেই শহরেই দেখা যায় মানুষ কাজের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে, সাইক্লিং করছে বা রাস্তায় হাঁটছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানায়, শহরের ছয়টি জেলায় রাশিয়ার ড্রোন হামলা হয়েছে। প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এ হামলায় আবাসিক ভবন, যানবাহন, গুদামঘর, অফিসসহ নানা স্থাপনায় আগুন লেগেছে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দুজন মারা গেছেন, এ মানুষগুলোকে রুশরা হত্যা করেছে। এটি আমাদের জন্য এক ভয়াবহ ক্ষতি।’
স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করে আবার চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নখের দোকানের মালিক দিমিত্রো ইয়াতসেঙ্কো জানান, হামলার পরপরই তিনি দোকান খুলে দেন, আর কর্মীদের নিরাপদে থাকার খবর শুনে স্বস্তি পান।
২৪ বছর বয়সী অনুবাদক কাতেরিনা বলেন, ‘‘আমি সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করি, দুই কাপ কফি খাই এবং কয়েক মিনিট চুপচাপ বসে থাকি—কারণ আমি কিছুই বদলাতে পারছি না, তাই চলতে হবে।’’
এই মনোভাবই যেন কিয়েভের মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে এগিয়ে নিচ্ছে। হামলার আতঙ্ক আর ক্ষত সত্ত্বেও শহর জুড়ে ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট, অফিস আর রাস্তায় মানুষের চলাচল থামছে না।
সুত্রঃ রয়টার্স