ওয়াশিংটন, ডিসিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বাইরে বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীদের সমাবেশ; ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১১ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক ফেডারেল বিচারক দেশজুড়ে জন্মসুত্রে নাগরিকত্ব বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। জন্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিল, সেটির বিরুদ্ধে ক্লাস অ্যাকশন মামলা গ্রহণ করে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
বিচারক জোসেফ লাপলান্তে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি দেশজুড়ে এককভাবে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা সীমিত করলেও ক্লাস অ্যাকশন মামলার ভিত্তিতে বিস্তৃত স্থগিতাদেশ দেওয়া এখনও সম্ভব। এই রায়ের ফলে পুরো দেশের প্রভাবিত শিশুদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না।
ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী, ১৮ জুলাই থেকে কেবল সেই শিশুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ছিল, যাদের বাবা বা মা অন্তত একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। সমালোচকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে জন্মস্থানের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষিত আছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়কে “বিচার বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বলেছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করবে। আদালত আপিলের জন্য সাত দিনের সময়ও দিয়েছে
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ও মামলার বাদীপক্ষ বলছে, এই আদেশ কার্যকর হলে লাখো শিশুর নাগরিকত্ব ঝুঁকির মধ্যে পড়ত। নতুন স্থগিতাদেশ সেই আশঙ্কা আপাতত দূর করেছে।
এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগত নাগরিকত্ব ও সংবিধানিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করে—এটিই জন্মসুত্রে নাগরিকত্ব বা birthright citizenship হিসেবে পরিচিত।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে বলা হয়—এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু তখনই নাগরিকত্ব পাবে, যদি তার বাবা বা মা অন্তত একজন বৈধভাবে নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন। এর বাইরে কারও সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, অবৈধ অভিবাসীদের শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করতে হবে, যা “আইনগত নয়” এবং “মার্কিন অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষতি করছে” বলে তারা দাবি করে।
কিন্তু সমালোচক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি ১৪তম সংশোধনীর বিরোধী, যা জন্মস্থানের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের অধিকার সুরক্ষিত করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মামলা হয়। শেষ পর্যন্ত নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক ফেডারেল বিচারক এই আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন, যাতে পুরো দেশে তা কার্যকর না হয়।
সুত্রঃ রয়টার্স