চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো আলবেনিজের এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখিয়েছে। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করার বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও বাণিজ্যিক বিরোধ কাটিয়ে স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বেইজিংয়ে সফরের সময় আলবেনিজ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাতীয় কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়।
চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো আলবেনিজের এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখিয়েছে। গ্লোবাল টাইমস তাকে ‘বাস্তববাদী ও যুক্তিবাদী’ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, তার কূটনৈতিক অবস্থান দুই দেশের মধ্যে বোঝাপড়া গভীর করতে সহায়ক হবে। চায়না ডেইলি লিখেছে, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে স্থিতিশীল এবং উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।
সফরের সময় চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এক বৈঠকে বলেন, চীন চায় অস্ট্রেলিয়া যেন চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারকে আরও উন্মুক্ত করে, বিশেষ করে খনিজ সম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতে। জবাবে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী জানান, তাদের বিনিয়োগ নীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হয়। এই সফরে ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চীনে অস্ট্রেলীয় আপেল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো চুক্তি। দুই দেশের মধ্যে ২০১৪ সালের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট নতুনভাবে পর্যালোচনা ও আলোচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যিক অগ্রগতির পাশাপাশি মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও কথা হয়েছে। চীনে আটক থাকা অস্ট্রেলীয় লেখক ইয়াং হেংজুনের প্রসঙ্গ বৈঠকে তুলেছেন আলবেনিজ। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর তৎপরতা নিয়েও অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ প্রকাশ পায়। আলবেনিজ বলেন, সংলাপ চালিয়ে যাওয়া খুবই জরুরি, কারণ যদি কোনো দেশ আলোচনায় না থাকে, তাহলে বিপদের মুখে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সফরের একপর্যায়ে আলবেনিজ বিখ্যাত গ্রেট ওয়ালে গিয়ে বলেন, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গফ হুইটল্যাম যে সাহসিকতার সঙ্গে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, সেই ধারা বজায় রেখেই তারা সম্পর্ককে আরও গভীর করতে চান। সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিং ও আলবেনিজের মধ্যে ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজের আয়োজনও হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই সফরকে ঘিরে চীনা সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, দুই দেশই টানাপোড়েনের পরিবর্তে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। আর আলবেনিজও এই সফরে বারবার জোর দিয়েছেন যে, পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ও পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করা এখন সময়ের দাবি। সফরের পর আন্তর্জাতিক মহলেও ধারণা তৈরি হয়েছে যে, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে নতুন করে সহযোগিতার একটি সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ