বর্তমানে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গোপালগঞ্জ ডিসি অফিসের সামনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জুলাই-
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কর্মসূচির আগে ও চলাকালীন সময়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা, পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সমাবেশ শুরুর আগেই মঞ্চে হামলা, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির নেতাকর্মীরা এসব হামলা ও নাশকতার জন্য নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। এরপর কর্মসূচী পালনের পর ফিরে যাওয়ার সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়।
বর্তমানে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গোপালগঞ্জ ডিসি অফিসে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। শহরের সব রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে, ফলে তারা কোথাও যেতে পারছেন না। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যদি তারা আজ টুঙ্গিপাড়ার দিকে যেতেন, তবে প্রত্যেকেই প্রাণ হারানোর আশঙ্কা ছিল। শহরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, টুঙ্গিপাড়ার দিকে যাত্রা হলে আশপাশের গ্রাম থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল।
এদিকে, গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এক জরুরি বিবৃতিতে সংগঠনটি সারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবরোধ ও ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সারা দেশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব ইউনিটকে স্থানীয় ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি, এই হামলার জবাব রাজপথেই দেয়া হবে।”
এখন পর্যন্ত শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ডিসি অফিস এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরের দোকানপাট বন্ধ, রাস্তায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। শহরজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।