হৃদরোগে মারা গেলেন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা, নগর উন্নয়ন এবং পর্যটনমন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, জেএমএমের প্রবীণ এই…
মেলবোর্ন, ১৭ জুলাই-
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনের নিহতের খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলায় ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকারের প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা ও সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারফিউ চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের চলাচল সীমিত থাকবে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় চার জনের মৃতদেহ সদর হাসপাতালে এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস বিবিসি বাংলাকে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জানান, এখন পর্যন্ত চার জনের মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেকে চিকিৎসা নিলেও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। ১৬ জুলাই (বুধবার) বিবিসি নিহতের খবর প্রকাশ করে।
জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ পালন করছে এনসিপি। এর অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে তাদের পদযাত্রা ও পথসভা হওয়ার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার রাতে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নামে প্রচার করা হয়, যা শহরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে।
বুধবার সকালেই গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কাছাকাছি সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িবহরেও হামলা চালানো হয়। গোপালগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, এ দুই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় এনসিপির সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা মঞ্চে থাকা সাউন্ড সিস্টেম, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপরও হামলা চালান। এনসিপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।
এর অর্ধ ঘণ্টা পরে পুলিশি নিরাপত্তায় সমাবেশ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা—নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম ও আখতার হোসেন। তারা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানান এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতারা গাড়িবহর নিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ সময় আবারও ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। পরিস্থিতির চাপে পুলিশও পিছু হটে। এনসিপির নেতাকর্মীরা তখন দ্রুত জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।
হামলাকারীরা সমাবেশ মঞ্চসহ আশপাশের স্থানে চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়, যা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবিও মাঠে নামে। বিকেলের দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ একযোগে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বেড়ে যায়, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে।
দিনভর সংঘর্ষ ও সহিংসতার প্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় সরকার গোপালগঞ্জে রাত ৮টা থেকে পরদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ঘোষণা করে। এই সময়ের মধ্যে জনসাধারণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au