বিশ্ব

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত: জাতিসংঘে আজ শুরু হচ্ছে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আন্তর্জাতিক সম্মেলন

  • 3:41 am - July 29, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১১৬ বার
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবিঃ সিএনএন

মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই- ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। আজ সোমবার (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কে শুরু হওয়া এ সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স ও সৌদি আরব।

সম্মেলনটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আলোচনা পুনরায় সক্রিয় করা। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে বিভক্ত করে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল এবং আরবদের জন্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যদিও ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

এএফপির তথ্যমতে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৪২টি দেশ ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। যুক্তরাজ্যও শিগগিরই এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে ২২১ জন ব্রিটিশ এমপি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। স্টারমার উত্তরে জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতি অবশ্যই একটি বৃহৎ কূটনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হতে হবে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল ব্যারট ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাতিসংঘের এ সম্মেলনে ইউরোপের আরও কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ানের মতে, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের ধারনাটি অনেকটাই গুরুত্ব হারাচ্ছিল, তবে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অবস্থান নতুন করে কূটনৈতিক গতি সৃষ্টি করেছে।

তবে বাস্তবতার মাটিতে এই সমাধান কতটা সম্ভব, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে। গাজায় ২১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসন, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং দখলকৃত এলাকা সংযুক্তকরণের পরিকল্পনা এই প্রক্রিয়াকে ভৌগোলিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

গাজার পরিস্থিতিও অবনতিশীল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৯ হাজার ৭৩৩ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে উপত্যকাটি। ইসরায়েল কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তাতে সংকটের বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গাজায় আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ করছে। তবুও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, অপুষ্টির হার এতটাই বেড়েছে যে, না খেতে পেয়ে আজও প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে একজন শিশু।

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সম্মেলন কতটা কার্যকর হবে এবং তা আদৌ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব ভিত্তি তৈরি করতে পারবে কিনা—সে প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ার পূজামণ্ডপে প্রতিবাদের বার্তা

ওটিএন বাংলা, অস্ট্রেলিয়া: দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপে এবার উঠে এসেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্ন। বাংলাদেশে…

সৌদিগামী ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২১ হাজারের বেশি যাত্রী

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী। গত ১০ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর রাত…

শামোন্ডা ভাইরাসে ফ্রান্সে একজনের মৃত্যু, মহামারির শঙ্কা কতটা?

করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই নতুন এক ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবাদি পশুর শরীরে সংক্রমণ ঘটানো শামোন্ডা ভাইরাস এবার মানুষের শরীরেও শনাক্ত হয়েছে। ফ্রান্সে…

তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনায় গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা

তুরস্কে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ক্যামেরুনের এই গোলরক্ষক ও…

আড়াই মাসে পর্যটনকেন্দ্রে ২৫ মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গত আড়াই মাসে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডুবে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন, পানিতে ডুবে ১০…

মোবাইল ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। মোবাইল ফোন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au