তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকালে বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট অফিসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে লন্ডন, তেহরানসহ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দূতাবাসে ছবি নামানো হয়েছে। তবে এ নির্দেশনা মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক দূতাবাস। কেন বা কী কারণে হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
দূতাবাসগুলোর প্রতিক্রিয়া
বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলে কয়েকটি দূতাবাস জানিয়েছে, তারা সরকারের মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বো দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, পাঁচ আগস্টের পরই তাদের অফিস থেকে শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়েছিল। পরে আবার রাষ্ট্রপতির ছবি সরানোর মৌখিক নির্দেশ এলেও সেখানে নতুন করে কিছু নামাতে হয়নি।
অন্যদিকে লন্ডন হাইকমিশন সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ফোনে নির্দেশনা পাওয়ার পর হাইকমিশনারের কক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়। তেহরান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের অফিসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার দুটি ছবি ছিল। নির্দেশনার পর সেগুলোও সরানো হয়েছে।
সরকারের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই
এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানোর আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাষ্ট্রপতির ছবি রাখার কোনো আইন নেই। তাই যদি এ সরকার ছবি সরাতে চাইতো, তবে মৌখিকভাবে নয়, লিখিত নির্দেশনা দেওয়া উচিত ছিল।
রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও আলোচনা
ছবি সরানোর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, রাষ্ট্রপতিকে কি পদ থেকেও সরানো হচ্ছে? এ বিষয়ে রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পথে যায়নি, যাতে সাংবিধানিক সংকট তৈরি না হয়। তবে সরকার হঠাৎ এ ধরনের মৌখিক নির্দেশ কেন দিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আইন ও প্রচলিত রীতি
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কেবলমাত্র জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টাঙানো বাধ্যতামূলক। তবে রাষ্ট্রপতি বা সরকারপ্রধানের ছবি ব্যবহারের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।
২০০২ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সে সময় খালেদা জিয়ার এবং পরে শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার হয়ে আসছিল। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি।
সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, বিদেশে রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি টানানো এক ধরনের প্রচলিত কাস্টম, তবে এটি আইনসিদ্ধ নয়। এখন যদি সরকার নির্দেশনা দেয়, তবে তা মানতেই হবে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত কেবিনেটের নির্দেশনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। আরেক সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা উচিত ছিল, টেলিফোনে মৌখিকভাবে নয়।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au