তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকালে বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের কাছ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায়। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) চীনা দূতাবাসে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, এ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আর্থিক চুক্তি (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) সই হতে পারে।
তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট) প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীনের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি অর্থ আসবে সরকারি কোষাগার থেকে।

তিস্তার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০২৯ সালে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যেই চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংস্থা পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না (পাওয়ার চায়না) সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের চিঠির সঙ্গে এই সমীক্ষা প্রতিবেদনও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা হলে চীনের ঋণ গ্রহণ করা যেতে পারে।
তিস্তা নদী বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদী। ভারতের পানি প্রত্যাহার ও বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ ভাঙনের কারণে নদীটির দুই পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, বন্যা ও সেচের পানির অভাবে ভুগছেন। পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নদীতে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, ভাঙন প্রতিরোধ, সেচের সুযোগ বৃদ্ধি এবং আকস্মিক বন্যা মোকাবিলা সহজ হবে।
প্রকল্পের আওতায় নদীর ১০২ কিলোমিটার এলাকায় খনন (ড্রেজিং), ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, তীর রক্ষা, চর খনন, ভূমি উদ্ধার, কৃষিজমি উন্নয়ন ও স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর দুই পাড়ে পর্যটন নগরী, মেরিন ড্রাইভ, হোটেল-মোটেল নির্মাণ এবং নিরাপত্তা জোরদারে থানা ও সেনা ক্যাম্পও বসানো হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা। ছবিঃ সংগৃহীত
তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন থাকলেও সমাধান হয়নি। ২০১১ সালে খসড়া হলেও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধিতায় তা আটকে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা প্রকল্প কেবল চীনের সহায়তায় বাস্তবায়ন করলেও শুষ্ক মৌসুমে ভারতের অংশ থেকে পানি না এলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।
এই প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি কূটনৈতিক দিক থেকেও সংবেদনশীল। শিলিগুড়ি করিডর অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি ভারত মেনে নেবে না বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। তাঁদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা উচিত।
তবু অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য জরুরি। তাই চীনের অর্থায়নে হলেও এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au