হামাসের প্রস্তাব নাকচ, গাজায় হামলা বন্ধে পাঁচ শর্ত দিল ইসরায়েল । ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন ৫ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিনের গাজায় প্রায় দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেও তা আবারও আটকে গেল। হামাস সব জিম্মিকে মুক্তি দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত বলে জানালেও ইসরায়েল উল্টো পাঁচটি কঠিন শর্ত বেঁধে দিয়েছে গাজায় হামলা বন্ধের জন্য।
হামাসের প্রস্তাব
গত বুধবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, গাজার সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে তারা প্রস্তুত। বিনিময়ে সমঝোতার ভিত্তিতে ইসরায়েলের কারাগার থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি, সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া, গাজা পুনর্গঠন শুরু করা এবং দখলদার বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানায় তারা। কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানেই এ প্রস্তাব সামনে আনে হামাস।
ইসরায়েলের পাল্টা শর্ত
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় হামাসের প্রস্তাবকে একেবারেই নাকচ করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গাজায় হামলা বন্ধ হবে কেবল তখনই, যদি হামাস—
- একসঙ্গে সব জিম্মিকে মুক্তি দেয়,
- সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র ত্যাগ করে,
- গাজাকে অস্ত্রমুক্ত করে,
- ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ মেনে নেয়,
- এবং গাজার শাসনভার এমন একটি বেসামরিক প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়, যারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও কঠোর মন্তব্য করে বলেন, “হামাস যদি অস্ত্র ত্যাগ না করে, তবে গাজা নগরীর অবস্থা হবে রাফা ও বেইত হানুনের মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত।”
ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই অবস্থানকে অবাস্তব আখ্যা দিয়ে বলেন, “সরকার আলোচনায় বসতে না চাইলে জিম্মিরা ঘরে ফিরবে না।” অন্যদিকে দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান এয়াল জামির গাজা নগরী দখল পরিকল্পনার বিরোধিতা করে সতর্ক করেছেন—এটি জিম্মিদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং সেনাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। মাত্র দু’বার যুদ্ধবিরতির সুযোগ হয়েছিল—একবার ৭ দিনের এবং একবার প্রায় দুই মাসের। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ইসরায়েল নিজেই তা ভেঙে দেয়।
ইসরায়েলের বর্তমান কৌশল ও শর্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্রুত কোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে গাজা নগরীতে সামরিক শাসন জারি হতে পারে, যদি সরকার দখল অভিযান চালিয়ে যায়।
সুত্রঃরয়টার্স