যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: বিবিসি
মেলবোর্ন, ৫ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে এখন থেকে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ (Department of War) আখ্যা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিরক্ষা দপ্তরের নতুন নামকরণের পক্ষে কথা বলছিলেন। তার মতে, বর্তমান নাম “প্রতিরক্ষা দপ্তর” অনেকটা আত্মরক্ষার বার্তা দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং বিজয়ের জন্য লড়াই করে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করেছিলাম যখন এটি ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামে পরিচিত ছিল। তখন আমরা শুধু লড়িনি, সব ধরনের বিজয় অর্জন করেছিলাম।”
হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামটি ব্যবহার করলে দপ্তরটির সদা প্রস্তুত থাকা, দৃঢ় অঙ্গীকার এবং কঠোর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটবে।
শিগগিরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন, যাতে প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘দ্বিতীয় নাম’ হিসেবে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হবে। তবে আইনগত দিক থেকে দপ্তরের নাম এখনো ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর’–ই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান আইন না বদলানো পর্যন্ত এই নাম পরিবর্তন সম্ভব নয়। ফলে আপাতত উভয় নামই চলবে, এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুসারে নতুন নাম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই ‘যুদ্ধ দপ্তর’ গঠন করা হয়। শুরুর দিকে এর কাজ ছিল মূলত মার্কিন স্থলবাহিনী পরিচালনা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে দপ্তরটির সঙ্গে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী একীভূত করে গঠন করা হয় ‘জাতীয় সামরিক সংস্থা’। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর’।
হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথকে (যাকে তিনি ভবিষ্যতে ‘যুদ্ধ মন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করছেন) নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তিনি আইনি ও নির্বাহী পদক্ষেপ নিয়ে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেন।
এর আগে ট্রাম্প কয়েক দফা প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে, প্রতিরক্ষা দপ্তরকে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ হিসেবে পরিচিত করা হলে এটি মার্কিন সামরিক শক্তিকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।
এই ঘোষণাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- সমর্থকদের মতে, এটি আমেরিকার সামরিক শক্তির ইতিহাস ও বিজয়ের প্রতীক।
- সমালোচকদের মতে, ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামটি ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণাত্মক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবে।
যত দিন না কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন পরিবর্তন করা হয়, তত দিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নাম অপরিবর্তিত থাকবে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হলে, অফিসিয়ালি ও নথিপত্রে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামটিও ব্যবহৃত হতে থাকবে।
সূূূত্রঃবিবিসি