আইসিইউতে ধর্ষণের শিকার শিশু, মাদ্রাসা সুপার আটক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের নাফ নদী এবং সংলগ্ন সাগরে একের পর এক জেলে নিখোঁজ বা অপহরণের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
শুধু গত এক মাসেই অন্তত একশতাধিক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন নাফ নদী ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশের নৌকার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীরা। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারও বলছে, স্বজনদের কোনো খোঁজ-খবর পাচ্ছেন না তারা। ফলে আতঙ্কে অনেক জেলে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের বাসিন্দা রশিদ আহমেদ তাঁর ছেলেকে চোখের সামনে আরাকান আর্মির হাতে হারান। তিনি বলেন,
“হঠাৎ দেখি স্পিডবোটে করে আরাকান আর্মি আসতেছে। আমি ছিলাম অন্য নৌকায়। আমার ছেলেসহ তারা ছিলো আরেকটা নৌকায়। ওরা স্রোতের টানে দূরে চলে গেছিলো। আমরা পালিয়ে আসতে পারলেও ওরা পারে নাই। স্পিডবোট আসি ধরি ফেলাইছে।”
সেদিন পাঁচজনকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা পারভীন বেগমের স্বামী ইমাম হোসেনও। পারভীন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী বেঁচে আছে না মরছে, কিছুই জানি না।”
কয়েকদিন পর মিয়ানমারের একটি ওয়েবসাইটে আটক জেলেদের ছবি প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, তারা মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল। ছবিতে ইমাম হোসেনসহ অন্যদের শনাক্ত করেন তাঁদের স্বজনেরা।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে নাফ নদীর মোহনা ও উপকূলীয় এলাকায় আরাকান আর্মির উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পর থেকেই অপহরণ ও আটক হওয়ার ঘটনাও বাড়তে শুরু করে।
শাহপরী দ্বীপের জেলে আব্দুর রহমানও ফেব্রুয়ারিতে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছিলেন। আট দিন পর বিজিবির মাধ্যমে তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়। আব্দুর রহমান বলেন,
“আমরা তো মনে করছিলাম এটা বাংলাদেশের জলসীমা। কিন্তু ওরা বলছিলো আমরা মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে গেছি। তারপর আমাদের হাত-পা বেঁধে ওদের আস্তানায় নিয়ে যায়।”
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বলছে, জেলেরা সীমান্তরেখা অতিক্রম করার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান বলেন,
“আমরা আমাদের জলসীমায় নিয়মিত টহল দিই। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জলসীমার ভেতর থেকে কাউকে ধরে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।”
তবে স্থানীয় জেলেরা বলছেন, আরাকান আর্মি অনেক সময় বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।
নাফ নদীর মোহনায় ডুবোচরের কারণে বাংলাদেশের অংশে পানির গভীরতা কমে গেছে। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে মিয়ানমারের সীমানা ঘেঁষে মাছ ধরতে যান। এছাড়া তীব্র স্রোতের কারণে নৌকা ভেসে মিয়ানমারের জলসীমায় চলে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।
টেকনাফ পৌর বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ বলেন,
“আগেও অনেক সময় সীমানা অতিক্রম হয়েছে। কিন্তু তখন মিয়ানমার আটকাত না। এখন আরাকান আর্মি আসার পর কড়াকড়ি শুরু করেছে।”
স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আরাকান আর্মির এমন তৎপরতার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—
একশতাধিক জেলে নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনেরা দিশেহারা। অনেক পরিবার জানে না তাদের প্রিয়জনরা আদৌ ফিরবেন কিনা।
বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাখাইনে কোনো বৈধ সরকারি কর্তৃপক্ষ কার্যকর না থাকায় নিখোঁজ জেলেদের ফেরত আনা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
সব মিলিয়ে নাফ নদী এখন বাংলাদেশি জেলেদের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, একে শুধু সীমান্ত সংকট নয়, বরং জীবন-মরণ সমস্যাও বলা যায়
সূুত্রঃবিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au