মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- প্রযুক্তির উন্নয়ন আজ মানবজীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তবে একইসঙ্গে অনেক কর্মজীবী মানুষের জন্য তা হয়ে উঠছে আতঙ্কের নাম। এমনই এক বাস্তবতার শিকার হয়েছেন ৬৩ বছর বয়সী ক্যাথেরিন সুলিভান, যিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কাজ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক ‘কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া’তে (সিবিএ)। গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে ছাঁটাই করে দেয়। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে কোনো মানুষ নয়—একটি চ্যাটবট, অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।
শুধু ক্যাথেরিন একা নন, একই মাসে ৪৪ জন কর্মী চাকরি হারান এই ব্যাংক থেকে।
যে এআইকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, সেটিই কাড়ল চাকরি
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিবিএই প্রথম বড় প্রতিষ্ঠান, যারা সরাসরি এআই প্রযুক্তি দিয়ে মানবকর্মীর জায়গা পূরণ করছে। আরও বিস্ময়ের বিষয়, চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মীরাই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সেই চ্যাটবটগুলোকে।
ক্যাথেরিন জানালেন, তিনি “বাম্বলিবি” নামের একটি চ্যাটবটকে প্রশিক্ষণ দিতেন। এর জন্য স্ক্রিপ্ট লেখা, উত্তরগুলো পরীক্ষা করা এবং আরও উন্নত করা—সবই ছিল তাঁর দায়িত্ব। তিনি ভেবেছিলেন, চ্যাটবটটি হয়তো দেশের বাইরে ব্যবহার হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই তাঁর জায়গা দখল করে নেয়।
তিনি বলেন,
“২৫ বছর ধরে কাজ করেছি। মনে করেছিলাম হয়তো অন্য কোনো বিভাগে বদলি করা হবে। কিন্তু জানিয়ে দেওয়া হলো—আমাকে আর দরকার নেই। স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারিনি, আমি নিজেই আমার চাকরি হারানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি!”
এআইয়ের প্রতি সমর্থন, তবে উদ্বেগও রয়েছে
যদিও নিজের চাকরি হারিয়েছেন, তবুও ক্যাথেরিন এআই ব্যবহারের পক্ষে। তিনি বলেন,
“আমি এআইয়ের ব্যবহারকে সমর্থন করি এবং এর প্রয়োজনীয়তা দেখি। তবে এআই দিয়ে যেন কপিরাইট আইন লঙ্ঘন বা মানুষের চাকরি হারানো ঠেকাতে উপযুক্ত নিয়ম-কানুন থাকা উচিত।”
কর্মক্ষেত্রে নতুন বাস্তবতা
বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কাজের গতি, দক্ষতা ও খরচ কমানোর জন্য এআই ব্যবহার করছে। তবে এর ফলে মানুষের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই থামানো সম্ভব নয়, তবে নীতি-নৈতিকতা ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ভারসাম্য আনা দরকার।
ক্যাথেরিনের ঘটনা প্রমাণ করে, প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতির যুগে শুধু দক্ষতা নয়, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাও নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ, আজ যে মেশিনকে মানুষ শেখাচ্ছে, কাল সেই মেশিনই মানুষের জায়গা দখল করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au