আইসিইউতে ধর্ষণের শিকার শিশু, মাদ্রাসা সুপার আটক
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।…
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আবারও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করেছে। সোমবার কোর্টের রায়ে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালাতে সবুজ সংকেত পেয়েছে প্রশাসন। এই অভিযানে মানুষকে তাদের গায়ের রঙ, ভাষা বা উচ্চারণের ভিত্তিতে আটক ও বহিষ্কার করা যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়টি আসে লস অ্যাঞ্জেলসভিত্তিক জেলা আদালতের বিচারক মামি ফ্রিমপংয়ের দেওয়া একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। তিনি গত ১১ জুলাই রায় দিয়েছিলেন, শুধুমাত্র বর্ণ, জাতিগত পরিচয় বা স্প্যানিশ ও ইংরেজি উচ্চারণের ভিত্তিতে মানুষকে আটক করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী (অযৌক্তিক তল্লাশি ও আটক নিষিদ্ধ) লঙ্ঘন করে।
রায়ের পক্ষে–বিপক্ষে অবস্থান
সুপ্রিম কোর্টে রায়টি ৬–৩ ব্যবধানে গৃহীত হয়। কোর্টের তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়োর ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, এই রায় কার্যত সব লাতিনোকে—তারা নাগরিক হোক বা না হোক—”যে কোনো সময় আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের টার্গেট” বানিয়ে ফেলবে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের সাংবিধানিক স্বাধীনতা হারিয়ে যেতে বসেছে, আর আমি চুপ করে বসে থাকতে পারি না।”
অন্যদিকে, রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট কাভানাহ রায়ে একমত হয়ে মন্তব্য করেন, জাতিগত পরিচয় একা আটক করার যথেষ্ট কারণ নয়, তবে অন্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এটি প্রাসঙ্গিক বিবেচিত হতে পারে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি একে “বড় জয়” বলে আখ্যা দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আদালতের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ছাড়াই ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন কর্মকর্তারা এখন “রোভিং প্যাট্রোল” চালিয়ে যেতে পারবেন।
ট্রাম্পের প্রশাসন এ বছর একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নীতি বাস্তবায়নের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত না পাঠিয়ে তৃতীয় দেশে পাঠানো এবং মানবিক কারণে দেওয়া সাময়িক বৈধতা বাতিল করার সুযোগ।
মামলার অভিযোগ ও সমালোচনা
লাতিনো সম্প্রদায়ের কয়েকজন নাগরিক, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিকও আছেন, জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলসে এ নিয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, মাস্ক পরা ভারী অস্ত্রধারী এজেন্টরা প্রকাশ্যে দিনের বেলায় বর্ণবাদী প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়। বাদী পেদ্রো ভাসকেজ পেরডোমো অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, কোনো কারণ জানানো হয়নি, ওয়ারেন্ট দেখানো হয়নি। ঠান্ডা, না খাইয়ে, আইনজীবী ছাড়াই আটকে রাখা হয়। এখন সুপ্রিম কোর্ট বলে, এটা ঠিক আছে? এটা ন্যায়বিচার নয়, বরং ব্যাজধারী বর্ণবাদ।”
মার্কিন সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) আইনজীবী মোহাম্মদ তাজসার একে “বর্ণবাদী বহিষ্কার পরিকল্পনা” উল্লেখ করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় ট্রাম্প রেকর্ডসংখ্যক বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান লাতিনো সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও প্রতিবাদ তৈরি করেছে। জুন মাসে লস অ্যাঞ্জেলসে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে ট্রাম্প সেখানে ন্যাশনাল গার্ড ও মার্কিন মেরিন মোতায়েন করেন, যা দেশীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরল নজির।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এ পদক্ষেপকে বেআইনি ও অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেছেন।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au