ভেনেজুয়েলায় ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, নিহত বেড়ে ২২৯৫
মেলবোর্ন,২ জুলাই- ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনও প্রায়…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে শুরু হওয়া তরুণদের বিক্ষোভ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সর্বশেষ দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র চন্দ্রাগিরি হিলসে কেবল কারে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন মার্কেট, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়ি, এমনকি থানাতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
দ্য হিমালয়ান জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডু উপত্যকার পশ্চিম প্রান্তের চন্দ্রাগিরি পৌরসভায় জেনারেশন জেডের তরুণরা দুর্নীতি ও সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অবরোধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে। এসময় তারা চন্দ্রাগিরি হিলস কেবল কারের নিচের স্টেশনটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের কেবল কার নেপালের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
কেবল কারে অগ্নিসংযোগ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সিজি ইলেকট্রনিকস ডিজিটাল পার্ক, বালাম্বু ও থাঙ্কোট থানায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সোমবার দেশজুড়ে পুলিশি দমন–পীড়নে অন্তত ১৯ তরুণ নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভ আরও সহিংস হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে নেপালের সেনাবাহিনী মাঠে নামে। তারা লুটপাট, ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেনাসদস্যরা দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও কঠোর হুঁশিয়ারিও দেন। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর, প্রয়োজনে কঠোর হতে দ্বিধা করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারসহ মোট ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে নেপালের সরকার। আগে থেকেই দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে জনগণের ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। নতুন এই সিদ্ধান্ত তরুণদের ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করে তোলে। ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা প্রথম দিনেই রক্তাক্ত রূপ নেয়।
মঙ্গলবারের সহিংসতায় নিহত ১৯ তরুণের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা শুধু সরকারি ভবনই নয়, পার্লামেন্ট, মন্ত্রীদের বাড়িঘরেও হামলা চালায় ও অগ্নিসংযোগ করে। রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সামরিক হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি তিন পুলিশ কর্মকর্তাকেও উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করে।
টানা প্রাণহানি ও সহিংসতার দায় স্বীকার করে প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এরপর কৃষিমন্ত্রীও পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান। তবে এতকিছুর পরও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভ থামেনি।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ—সব মিলিয়ে নেপাল এখন চরম অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। একের পর এক পদত্যাগ ও সেনা মোতায়েনের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের আক্রোশ প্রতিদিনই নতুন রূপ নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের দমননীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের মতো পদক্ষেপ না বদলালে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে, যা নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গভীর সংকট ডেকে আনতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au