ভেনেজুয়েলায় ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, নিহত বেড়ে ২২৯৫
মেলবোর্ন,২ জুলাই- ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনও প্রায়…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- ফ্রান্স জুড়ে আবারও বিক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বাজেটে ব্যাপক কাটছাঁটের পরিকল্পনা এবং সরকারের প্রতি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করতে আজ বুধবার হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসে। আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে “সবকিছু অবরোধের” ডাক দিয়ে বিভিন্ন শহরে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়, আর এ সময় অন্তত ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের তীর্যক সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। গত সোমবার বাজেটকে কেন্দ্র করে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করতে হয়েছে তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরুকে। এর ফলে দুই বছরের কম সময়ে পঞ্চমবারের মতো নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হচ্ছে মাখোঁকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মাখোঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী ফ্রেড বলেন,
“সেই একই গল্প, একই অবস্থা। শুধু মন্ত্রীরা নন, সমস্যা আসলে মাখোঁ নিজেই। তাঁর শাসনধারা ও সিদ্ধান্তই দেশে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। তাই তাঁকেই সরে যেতে হবে।”
রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকারীরা একটি স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে রাখলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। রেলস্টেশনে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশি বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেটায়ো সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিমাঞ্চলের রেনে শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া পুলিশের ওপর ভারী কংক্রিটের টুকরা ছুড়ে হামলা চালানো হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, দিনের বাকি বিক্ষোভগুলোতে ‘কট্টরপন্থী ও চরম বামপন্থী গোষ্ঠী’ অনুপ্রবেশ করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তুলতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। প্রধান প্রধান নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, জীবনযাত্রার খরচ লাগামহীনভাবে বাড়ছে, অথচ বাজেটে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে সরকারের প্রতি অসন্তোষ। ফলে ‘সবকিছু অবরোধ’ স্লোগানটি দ্রুত দেশব্যাপী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্সে এ বিক্ষোভ কেবল বাজেটের বিরুদ্ধে নয়, বরং প্রেসিডেন্ট মাখোঁর নেতৃত্ব ও তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও একটি সরব প্রতিবাদে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকে, তবে মাখোঁ সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়বে এবং রাজনৈতিক সংকট গভীর হতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au