ভেনেজুয়েলায় ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, নিহত বেড়ে ২২৯৫
মেলবোর্ন,২ জুলাই- ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনও প্রায়…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের জেরে সহিংস বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। এতে দেশটির রাজনীতি চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। ভারতের কৌশলগত প্রতিবেশী এই দেশের পরিস্থিতি দেখে দিল্লি শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি অনেককেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কার আন্দোলনে গোতাবায়া রাজাপক্ষের পতন এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার দৃশ্যকে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বিক্ষোভে সরকার পতন ঘটল।

কাঠমান্ডুতে সেনারা টহল দিচ্ছেন। ছবি: এএফপি
সহিংস বিক্ষোভ ও প্রাণহানি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে আন্দোলন রাস্তায় গড়ায়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে হামলা চালায় এবং কয়েকজন রাজনীতিকের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে, সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে।
এই দৃশ্য অনেকের কাছে হুবহু মনে করিয়ে দিয়েছে গত বছর বাংলাদেশের আন্দোলন এবং শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ভবনে হামলার চিত্র।
ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ
নেপালের সঙ্গে ভারতের প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। নেপালের ভেতর দিয়েই ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে প্রবেশের পথ। সীমান্তের ওপারের এই অস্থিরতা ভারতের জন্য নিরাপত্তাজনিত বড় হুমকি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে লিখেছেন, “নেপালের সহিংসতা হৃদয়বিদারক। এত তরুণ প্রাণহানিতে আমি মর্মাহত। নেপালের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।” এর আগে তিনি মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার মতো নেপালের হঠাৎ সংকটে ভারত বিস্মিত হয়েছে। বিশেষ করে ওলির দিল্লি সফরের এক সপ্তাহ আগে তার পতন ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।
নেপাল–ভারত সম্পর্কের গভীরতা
ভারতে প্রায় ৩৫ লাখ নেপালি বসবাস বা কাজ করেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়াই অবাধ যাতায়াত। নেপালের প্রায় ৩২ হাজার গুর্খা সেনা বিশেষ চুক্তির আওতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
ভারতের সঙ্গে নেপালের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার। কাঠমান্ডু তেল ও খাদ্যপণ্যের জন্য ব্যাপকভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি নেপাল হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রতিবছর হাজারো ভারতীয় ভক্ত মুকতিনাথসহ নেপালের মন্দিরগুলোতে তীর্থযাত্রা করেন।

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন। ছবিঃ সংগৃহীত
চীনের প্রভাব ও ভূরাজনীতি
নেপালের সীমান্তের ওপারেই চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের অবস্থান। এ কারণে দেশটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভারত ও চীন উভয়েই নেপালে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অনেক নেপালি বিক্ষোভকারী উভয় দেশের ওপরই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলছে।
২০১৯ সালে ভারতের নতুন মানচিত্রে বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করায় নেপাল ক্ষুব্ধ হয়েছিল এবং পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। সম্প্রতি ভারত ও চীন ওই সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মত হলে ওলি প্রকাশ্যে আপত্তি জানান।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কট
বিক্ষোভকারীরা ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন–ইউএমএল, শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস এবং পুষ্পকমল দাহাল প্রচণ্ডর সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র)—সব ক’টি বড় দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ফলে উত্তরসূরীর নেতৃত্বে কী ধরনের সরকার গঠিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ভারতের করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের উচিত নেপালের তরুণ প্রজন্মকে পাশে টানতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বৃত্তি বাড়ানো। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। সার্ক কার্যত অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় ভারতের জন্য প্রতিবেশী সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতা বলেন, “ভারত যদি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে প্রথমেই তাকে নিজের প্রতিবেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au