ভেনেজুয়েলায় ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, নিহত বেড়ে ২২৯৫
মেলবোর্ন,২ জুলাই- ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে। আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ এবং এখনও প্রায়…
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- চলতি বছরের নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত বিমান ও প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ‘দুবাই এয়ারশো’। এবার ১৭ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজিতব্য এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এক হাজার চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। প্রদর্শনীতে ১৯২টি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ প্রদর্শন করা হবে এবং এতে যোগ দেবেন প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার দর্শনার্থী।
তবে এবারের আয়োজনে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ—কোনো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বা বিমান খাতের প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিতে পারবে না।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ওয়াইনেট ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোহায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাত।
গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানায় যে নিরাপত্তাজনিত কারণে এয়ারশোতে তাদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, মূলত কাতারের ওপর হামলার জেরেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
কাতারের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে গত বুধবার আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ সরাসরি দোহা সফর করেন। শিগগিরই কাতার সফরে যাবেন জর্ডানের যুবরাজ হুসেইন এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও।
আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ স্পষ্ট ভাষায় জানান,
“সংযুক্ত আরব আমিরাত কাতারের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সব ধরনের উদ্যোগে আমিরাত সমর্থন জানাবে।”
এছাড়া আমিরাত সরকার দোহায় ইসরায়েলের হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ এবং ‘কাপুরুষতার পরিচয়’ আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, এটি কেবল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নয়, বরং কাতারের সার্বভৌমত্বেরও অবমাননা।
১৯৮৯ সালে প্রথমবারের মতো দুবাই এয়ারশো অনুষ্ঠিত হয়। সেই আসরে ২০০ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল এবং প্রদর্শিত হয়েছিল ২৫টি উড়োজাহাজ। এরপর থেকে প্রতি আসরেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও দর্শনার্থীর সংখ্যা। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও। কিন্তু কাতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবার সেই ধারাবাহিকতায় ভাঙন ঘটল।
শুধু আমিরাত নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই পোল্যান্ডে একটি অস্ত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা খাতের কয়েকজন কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্থানীয় পুলিশ। তাদের কাছে সামরিক অভিজ্ঞতা ও রিজার্ভ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়।
বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে দুবাই এয়ারশো একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এখানে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিষিদ্ধ হওয়া কেবল অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও বড় ধাক্কা। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কাতারের ওপর হামলার কারণে ইসরায়েল ক্রমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপে পড়ছে, বিশেষ করে আরব বিশ্বে তাদের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au