আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্ক। ছবিঃ এপি
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত অঙ্গরাজ্য ইউটাহর একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কার্ক।
হামলার পর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারী এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে এফবিআই ইতিমধ্যেই বৃহৎ পরিসরে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে কর্মকর্তারা হামলায় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছেন। তবে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বক্তৃতা দেওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চার্লি কার্ক সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, কার্ককে মরণোত্তর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা “মেডেল অব ফ্রিডম” প্রদান করা হবে।
চার্লি কার্ক ছিলেন একজন প্রভাবশালী মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও ভাষ্যকার। ১৯৯৩ সালে ইলিনয়েসে জন্ম নেওয়া কার্ক অল্প বয়সেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ, যা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে রক্ষণশীল আদর্শ প্রচারে কাজ করে। পরে তিনি টার্নিং পয়েন্ট অ্যাকশন নামে আরেকটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন, যা সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে।
তরুণদের মধ্যে রক্ষণশীল আদর্শ ছড়িয়ে দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল ব্যাপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসভায় তাঁর উপস্থিতি ছিল শক্তিশালী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে তিনি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে জোরালো প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে তাঁর অনেক মন্তব্য এবং অবস্থান ছিল বিতর্কিত, বিশেষত অভিবাসন, ধর্ম এবং “ওয়োক কালচার” নিয়ে।
তাঁর হত্যাকাণ্ড শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও রাজনৈতিক সহিংসতার প্রশ্নকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।
সুত্রঃ রয়টার্স