শ্রীলঙ্কাকে হটিয়ে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ৫ মে- আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বার্ষিক হালনাগাদের পর এই উন্নতি পেয়েছে টাইগাররা। র্যাঙ্কিং…
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- নেপালে টানা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংস আন্দোলনের পর রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বেশ কয়েকটি শহরে জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। পাশাপাশি প্রতিদিন রাত ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নেপালি সেনাবাহিনী জানায়, প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল বা অপ্রয়োজনীয় চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। আর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত পুরোপুরি কারফিউ বলবৎ থাকবে।
তবে জনগণের জরুরি প্রয়োজনে সীমিত চলাচলের অনুমতি রাখা হয়েছে। সকালে ৬টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে পারবেন।
সম্প্রতি নেপাল সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিবাদে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়, যা কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়।
গত সোমবার আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাত্র একদিনেই ১৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এরপর আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
প্রাণহানির দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উত্তেজিত জনতা পার্লামেন্ট ভবন, প্রেসিডেন্টের ভবন এবং বিভিন্ন মন্ত্রীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লুটপাট, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা।
এই সহিংসতায় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে তিনজন পুলিশ সদস্যও নিহত হন।
চরম সংকটের মধ্যে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। কিন্তু নেতৃত্ব পরিবর্তনেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার সেনাবাহিনী সরাসরি দেশের দায়িত্ব নেয়।
সেদিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। তিনি তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহিংস পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।”
সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। সেনাপ্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আইন ভঙ্গকারীদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে।”
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালে এখন সেনাবাহিনী সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেনাশাসন পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব।
সবাই এখন তাকিয়ে আছে—তরুণ প্রজন্মের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়, আর সেনাবাহিনী আলোচনার পথে এগোয় কি না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au