সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না জামায়াত জোট
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হলে তাতে অংশ নেবে না জামায়াত জোট। তবে সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা…
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কে ভারতের রপ্তানিনির্ভর কার্পেটশিল্পে নেমে এসেছে ধস। একসময়কার সমৃদ্ধ ‘কার্পেট সিটি’ উত্তর প্রদেশের ভাদোহি আজ আশঙ্কার শহর। রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছেন হাজারো রপ্তানিকারক, আর কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন লাখো তাঁতি।
৭৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক সূর্যমণি তিওয়ারি, যিনি প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০০ কোটি রুপির কার্পেট পাঠাতেন, এখন সম্পূর্ণ অসহায়। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন—
“আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। গত এক মাসে কোনো চালানই পাঠানো যায়নি। এটা আমার ৫০ বছরের কার্পেট ব্যবসায় সবচেয়ে খারাপ সময়। যদি দুই মাসের মধ্যে সমাধান না হয়, এই শিল্প ভয়াবহ মৃত্যুর মুখে পড়বে।”
প্রথমে ৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় কার্পেটে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরে ২৭ আগস্ট রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির অজুহাতে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছে।
ভারতের বার্ষিক কার্পেট রপ্তানি আয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি রুপি (১৮৩ কোটি ডলার)। এর ৮০ শতাংশই আসে ভাদোহি থেকে, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ রপ্তানিকারক ও প্রস্তুতকারক সক্রিয়। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এই শিল্পের ওপর।
কার্পেট রপ্তানি উন্নয়ন কাউন্সিলের পরিচালক পিয়ুষ বারনওয়াল বলেন—
“এত বেশি শুল্ক আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। পুরো শিল্পটাই রপ্তানিনির্ভর। দেশীয় বাজার খুব সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের প্রধান ক্রেতা, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ।”
তিনি যোগ করেন, “পাইকারি ব্যবসায়ীদের মুনাফা যেখানে ৮–১০ শতাংশ, সেখানে ৫০ শতাংশ শুল্ক দেওয়ার মানে শিল্পকে মৃত্যু ফাঁদে ফেলা।”
অল ইন্ডিয়া কার্পেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাজা খান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ বেকার হয়ে গেছেন। যদি দ্রুত সমাধান না আসে, এই সংখ্যা দুই মাসের মধ্যে সাত লাখে পৌঁছাতে পারে।
তাঁতিদের দুর্দশার চিত্র ভয়াবহ। কার্পেটের কিনারা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করা ফাতিমা সামির বলেন—
“প্রতিঘণ্টায় ৬০ রুপি আয় করতাম। এখন আয় কমে গেছে। ছোট মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে আনতে হয়েছে।”
তার স্বামীও কাজের অভাবে অন্য শহরে গিয়ে কোমল পানীয় কারখানায় চাকরি নিয়েছেন।
কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কর্মী সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজ পাচ্ছেন। এক রপ্তানিকারক ইমতিয়াজ আনসারি জানান, তার প্রায় ৪ হাজার তাঁতি এক মাস ধরে বেকার, এবং ৯০ শতাংশ ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের দুরবস্থার সুযোগ নিতে পারে তুরস্ক ও পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রে কার্পেট আমদানিতে যেখানে ভারতের জন্য শুল্ক ৫০ শতাংশ, সেখানে তুরস্ককে দিতে হয় মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানকে ১৯ শতাংশ।
রপ্তানিকারক সঞ্জয় গুপ্তা বলেন—
“এই শিল্প ছোট আকারের হলেও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে তাঁতিরা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। পরে তাদের ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।”
স্থানীয় সাংবাদিক ওবায়দুল্লা আসরি জানান—
“কারখানাগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কার্পেট তৈরি করে। বিক্রির টাকা ফেরত আসে দু-তিন মাস পরে। এখন ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শুধু শিল্প নয়, ভাদোহির পুরো অর্থনীতিই ধসে পড়ছে।”
দোকানপাট খালি হয়ে যাচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। একসময়কার ব্যস্ত ‘কার্পেট সিটি’ এখন পরিণত হয়েছে উদ্বেগের নগরীতে।
ভারতের কার্পেটশিল্প শুধু ব্যবসাই নয়, কোটি মানুষের জীবিকার উৎস। যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক যদি বহাল থাকে, তবে ভাদোহির তাঁতশিল্প ইতিহাস হয়ে যেতে পারে। আর সেই ফাঁকা জায়গা দখল করে নেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au