জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হলে তাতে অংশ নেবে না জামায়াত জোট। তবে সংবিধান সংস্কারের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার, শুধু সংশোধন নয়। গণভোটের মাধ্যমেও সে দাবির প্রতিফলন ঘটেছে। তাই সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই। সংশোধন একটি চলমান ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করা হলে সেটি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের যে রায় এসেছে, তা সংসদে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে বাস্তবায়িত হবে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, সংস্কার জনগণের দাবি এবং বিরোধী জোটেরও দাবি। জনগণের এ দাবি থেকে সরে যাওয়ার কোনো অধিকার তাঁদের নেই।
সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমঝোতার সংসদ গড়ে উঠেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সমালোচনা করাই একটি কার্যকর বিরোধী দলের দায়িত্ব। সংসদের ভেতরে এমন কোনো আচরণ করা হবে না, যাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে জনগণের কথা বলার জন্য।
তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে বিরোধীদলের যৌক্তিক অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে তা নাকচ করা হলে তাঁরা ওয়াকআউট করবেন। তবে সেটি দীর্ঘমেয়াদি হবে না। নিজেদের ‘গরম বিরোধী দল’ হিসেবে নয়, বরং দেশের স্বার্থে কাজ করা একটি যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে দেখতে আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্তে পুশইন ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিরোধীদল সংসদে নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে ডেকে বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়। তবে জামায়াতের সংসদ সদস্য নোটিশ প্রত্যাহার করেননি। তিনি বলেন, স্পর্শকাতর বলেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল বিরোধীদল। কিন্তু আলোচনা শুরুর আগেই তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে বিরোধীদলের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁদের প্রথম নোটিশ ছিল গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে। এছাড়া ব্যাংক খাত, ভঙ্গুর অর্থনীতি, পুঁজিবাজারের সংকট এবং প্রবাসীদের সমস্যা নিয়েও সংসদে জনস্বার্থে কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে সরকার ও বিরোধীদল গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তবে আলোচনা বাস্তবায়ন না হলে প্রবাসীদের সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।
সংসদ পরিচালনায় প্রতি মিনিটে প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় হয় উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকারকে তিনি অনুরোধ করেছেন যেন সংসদে ব্যক্তিগত বা দলীয় চরিত্রহনন, কাউকে খুশি করা কিংবা অযথা প্রশংসা করার প্রবণতা বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, সংসদে তাঁরা এসেছেন জনগণের পক্ষে কথা বলতে, কারও প্রশংসা করতে নয়।
মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।