অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতে ব্যবসা হারিয়ে প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন হারিয়ে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতির…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- নেপালে সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সহিংসতায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন ও রাজনীতিবিদদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে সেনা নামানো হয় এবং দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়।
অনেকেই নেপালের এই দৃশ্যকে শ্রীলঙ্কা (২০২২) বা বাংলাদেশ (২০২৪)-এর রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন। তিন ক্ষেত্রেই গণবিক্ষোভ, নেতৃত্বের পতন ও রাষ্ট্রীয় অচলাবস্থা একটি সাধারণ মিল তৈরি করেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। নেপালের ১,৭৫০ কিলোমিটার সীমান্ত পাঁচটি ভারতীয় রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত এবং এ সীমান্ত পুরোপুরি উন্মুক্ত। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই এপার-ওপার যাতায়াত করেন। পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কেও দুই দেশ গভীরভাবে যুক্ত। ফলে নেপালের সংকট ভারতের কাছে কৌশলগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।
কৌশলগত গুরুত্ব
নেপালের প্রধান তিন রাজনৈতিক দল—ওলির নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল), শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস এবং প্রচণ্ডের নেতৃত্বাধীন মাওবাদী কেন্দ্র—জনগণের আস্থা হারিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সব দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও নতুন নেতৃত্ব কারা হবেন তা স্পষ্ট নয়। তাই দিল্লি এখন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
জটিল কূটনীতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এখন দুটি কাজ—
১. নেপালের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন।
২. তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন, যারা এই বিক্ষোভের মূল চালিকা শক্তি।
ফেলোশিপ, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ভারত তরুণদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জপূর্ণ—সার্ক কার্যত অচল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েনপূর্ণ, মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত। এর সঙ্গে নেপালের অস্থিরতা ভারতের কূটনৈতিক বোঝা আরও বাড়িয়েছে।
aঅবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতার ভাষায়, “মহাশক্তি হতে চাইলে আগে নিরাপদ ও স্থিতিশীল প্রতিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” নেপালের সংকট তাই শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। ভারতের জন্য এটি বিশেষ কৌশলগত চ্যালেঞ্জ, যেখানে দেরি হলে প্রভাব হারানোর ঝুঁকি আছে, আর সেই ফাঁক পূরণ করতে প্রস্তুত চীন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au