অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতে ব্যবসা হারিয়ে প্রায় ৪,৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ জুন- ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন হারিয়ে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছে তুরস্কভিত্তিক বিমানবন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেলেবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ক্যানান সেলিবিয়েগলু এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যানান সেলিবিয়েগলু বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি তাদের প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি। তাঁর দাবি, ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘদিনের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো কার্যক্রম একদিনের মধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে গড়ে তোলা কার্যক্রম রাতারাতি ভেঙে পড়ে। সংস্থার হাজার হাজার কর্মীকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয় এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, মাত্র একদিনের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কর্মী অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হন।
ভারতের দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুসহ নয়টি বিমানবন্দরে পণ্য পরিবহন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করত সেলেবি। তবে ‘অপারেশন সিঁদুর ’-এর সময় ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যুরো তাদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনুমোদন বাতিল করে দেয়। এর ফলে দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এলাকায় এক জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ওই হামলার পেছনে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে ভারত। যদিও পাকিস্তান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর ’ নামে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বলে দাবি করা কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ওই সময় তুরস্ক প্রকাশ্যে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানায়। এরপরই তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে সেলেবির নিরাপত্তা অনুমোদন বাতিল করা হয়েছিল বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
সেলেবির চেয়ারম্যানের দাবি, ভারতের ওই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক ক্ষতিই সৃষ্টি করেনি, বরং প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।