দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- দুর্গাপূজা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেছেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে মেলা-মদ-গাঁজার আড্ডা বসতে দেওয়া হবে না। এই বক্তব্য আসলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে মাদক বা অশুভ কর্মকাণ্ডকে জড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী এ কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হেলাল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সব ধর্মের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল। পূজামণ্ডপ শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির প্রতীক। অথচ দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে সরকার সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, “মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু তা কোনো ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করলে জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যায়। আমরা দাবি করছি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবিলম্বে এই মন্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং জনগণের কাছে ক্ষমা চাইবেন। ধর্মীয় উৎসবগুলোতে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
কেন্দ্রীয় এই বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ জনগণ রক্ত দিয়ে সংগ্রাম করেছে একটি নতুন সরকার ও নতুন দিনের বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তিনি বলেন, দশমীর দিনে প্রতিমা বিসর্জনের সময়সূচি নির্ধারণে পুরোহিত ও পঞ্জিকার মতামতই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
হেলাল আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি হবে সব ধর্মের মানুষের মিলনস্থল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। “হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দেয় না” এই ধারণাটি ভুল। আগামী নির্বাচনে গাজীরহাটের মানুষই তা প্রমাণ করবে।
সমাবেশে স্থানীয় নানা সমস্যা, বিশেষ করে পানীয় জলের সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন হেলাল। তিনি নেতাকর্মীদের বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রামপ্রসাদ অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক খাঁন জুলফিকার আলী জুলু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল ও দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাইফুর রহমান মিন্টু।
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা বিল্লাল হোসেন, সাবেক সহসভাপতি বাবু সুবোধ কুমার বিশ্বাস, ছাত্র-যুব মতুয়া মহাসংঘের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাবু প্রসেনজিৎ সিকদার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গাজীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুকিত মীর ও সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা গাজী।