বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী (৫৫) সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সরকার উৎখাতের মিশনে বাংলাদেশে এসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এখন তাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের শনাক্তে কাজ করছে গোয়েন্দারা।
গত শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রীপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এনায়েত করিম মার্কিন পাসপোর্টধারী এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশে এসে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ওঠেন, পরে গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করতে থাকেন। এ সময় তিনি সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা এবং ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন।
গোয়েন্দারা জানান, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা দুটি মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চুক্তিভিত্তিক এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার পরিকল্পনা ছিল নতুন জাতীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বর্তমান সরকার পরিবর্তন করা। তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থায় সরবরাহ করছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ডিবির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এনায়েতের কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে রিমান্ডে নিলে আরও অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে।”
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার পূর্ববর্তী বাংলাদেশ সফরগুলোর কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনায়েত জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে এবং দুর্বল অবস্থায় আছে। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকান সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এনায়েত উল্লেখ করেছেন যে আগামী ২১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং কে সরকার প্রধান হবেন ও কারা অংশ নেবেন, সেটি আমেরিকা নির্ধারণ করবে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এনায়েতের কার্যকলাপ দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। তিনি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থায় তথ্য সরবরাহ করছিলেন।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “গ্রেফতার এনায়েতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে। তার সহযোগীদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।”