ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে প্রাণ হারালেন ২৪ জন
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১…
মেলবোর্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর- অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার অভিযান ও বিরোধী কণ্ঠরোধ বেড়েই চলেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে।
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথমে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখনো কোনো নির্বাচনী সূচি ঘোষণা করা হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নির্বাচন নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার নজরদারি ও দমন-পীড়নেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
ইউরেশিয়া রিভিউ-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি এখন পরিণত হয়েছে নজরদারি, দমন আর নীরবতা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযানে।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বহু বিক্ষোভকারী, রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষাবিদ এমনকি সাংবাদিককেও আটক করা হয়েছে। ঢাকার তেজগাঁওয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দেওয়ার কারণে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেবল বিক্ষোভ নয়, প্রতীকী কার্যক্রমেও কড়া নজরদারি চলছে। মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নাহিদা নূর সুইটি নামাজ শেষে একটি মিছিলে যোগ দেওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা আবু আলম শহীদ খান, আইন অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কুরজান এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পন্নাসহ সাবেক সরকারি ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবীদেরও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ছাত্রনেতা শেখ ইবনে সাদিক ও আমির হামজাকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব গ্রেপ্তার জননিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনের কাঠামো দুর্বল করার জন্যই চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সল্টগোলা ক্রসিংয়ে সংঘর্ষে এক পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার ও আরও অনেককে মামলায় আসামি করা হয়। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আটককৃতদের অনেকেরই ওই সহিংস ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না।
এই ব্যাপক গ্রেপ্তার-অভিযানের ফলে দেশে এক ধরনের ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ খোলাখুলি কথা বলতে বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছে। আত্ম-সংযম ও নীরবতা বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম স্থিতিশীলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরেশিয়া রিভিউ সতর্ক করেছে, বাংলাদেশ শুধু বিরোধী কণ্ঠরোধ করছে না, বরং বৈধতার সীমারেখাও নতুন করে টেনে দিচ্ছে। বিশ্লেষণে উপসংহার টানা হয়েছে যে কেবল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই গণতন্ত্রে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। অন্যথায় দেশটি আরও গভীর স্বৈরশাসনের দিকে চলে যেতে পারে।
সুত্রঃ ইউরেশিয়া রিভিউ ও ন্যাশনাল হেরাল্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au