ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহে প্রাণ হারালেন ২৪ জন
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১…
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টাকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, “আপনাদের সঙ্গে সবসময় দেখা করার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ হয় না। পূজার সময় বছরে একবার দেখা হয়, কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়।” এ সময় তিনি দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান।
ধর্মীয় নেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর দেশে এক হাজারের বেশি পূজামণ্ডপ বেড়েছে এবং সারাদেশে পূজার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবকে ধন্যবাদ জানান নেতৃবৃন্দ। তাঁদের ভাষ্য, ধর্ম উপদেষ্টা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, মন্দির পরিদর্শন করছেন এবং প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। ফলে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।
মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব স্থায়ী দুর্গামন্দিরের জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপনি নিয়মিত আমাদের খোঁজ-খবর রেখেছেন। গত বছরের মতো এবারও পূজায় দুদিন ছুটি দেওয়া হয়েছে, এজন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গত বছর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে আপনি বলেছিলেন, আমরা সবাই এক পরিবার—এ বক্তব্য আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, “গত বছর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে আপনি বলেছিলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় পূজা হবে এমন দেশ আমরা চাই না। কোনো সরকারপ্রধানের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো এমন বক্তব্য শুনে আমরা অভিভূত হয়েছিলাম। আপনার সেই বক্তব্য আমাদের মনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।”
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুণ দে বলেন, “আপনার দায়িত্বকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপন হয়েছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মিথ্যা প্রচার চলছে, আমরা আশা করি আপনার নেতৃত্বে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।”
বৈঠকে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয় সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে। কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে কল্যাণকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে, অন্য এক মন্দিরে স্নানাগারের জন্য সিঁড়ি করে দেওয়া হচ্ছে। অসচ্ছল মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিধবা নারী ও অনাথ আশ্রমের জন্যও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকের শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং দুর্গাপূজার আগাম শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে তিনি আহ্বান জানান, যেন পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ষড়যন্ত্রের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার ও সচিব দেবেন্দ্র নাথ উঁরাও, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাআনন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শ্রী শ্রী গীতা হরি সংঘ দেব মন্দিরের সভাপতি বিমান বিহারী তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এস এন তরুণ দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অপর্না রায় দাস, শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র দত্ত এবং সিদ্ধেশ্বরী সার্বজনীন পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণীতা সরকার।
সুত্রঃ বাসস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au