সরকার পতনের জন্য ফেডারেল সরকারের ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কারা পেয়েছিলেন
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- ‘ বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকার পতনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে’ এমন গুরুতর অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন শিগগিরই ২০৩৫ সালের জন্য নতুন জলবায়ু লক্ষ্য ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। এটি কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের তুলনায় বেশি উচ্চাভিলাষী হলেও যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য থেকে কম হবে। যুক্তরাজ্যের লক্ষ্যকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চাভিলাষী বলে ধরা হয়।
এটি বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। নতুন লক্ষ্য আজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে নিউইয়র্কে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য নেতারাও তাদের ২০৩৫ সালের লক্ষ্য জানাবেন।
এর আগে সোমবার প্রকাশিত প্রথম জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে ১৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাপজনিত মৃত্যু বাড়বে এবং বড় শহরগুলোতে ঘন ঘন বন্যা দেখা দিতে পারে যদি বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নিঃসরণে পৌঁছানো। এর জন্য ইতিমধ্যেই নেয়া নীতির পাশাপাশি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে। যেমন, সবুজ জ্বালানি উৎপাদনে ১.১ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা বিমান ও ডিজেল জ্বালানি খাতে ব্যবহার হবে। এসব নীতিকে মডেলিংয়ের মাধ্যমে যাচাই করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।
আজ মন্ত্রিসভা জলবায়ু পরিবর্তন কর্তৃপক্ষের (CCA) পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন চূড়ান্ত সুপারিশ দেবেন। কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স জানিয়েছেন, তার বিভাগ ২০৩৫ সালের জন্য ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ নিঃসরণ হ্রাসের একটি পরিসর নিয়ে কাজ করেছে। তবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এবং দেশটি জলবায়ু কার্যক্রম থেকে সরে আসায় চূড়ান্ত লক্ষ্য ওই পরিসরের চেয়ে কম হতে পারে।
জাতিসংঘের আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (IPCC) ২০২১ সালে বলেছিল, প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণ ৬৮ শতাংশ কমাতে হবে। কিন্তু যেসব দেশ লক্ষ্য ঘোষণা করেছে, তাদের বেশিরভাগই এ মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে গৃহীত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পৃথিবী ২.৯ ডিগ্রি উষ্ণায়নের পথে রয়েছে।
যদিও অস্ট্রেলিয়া বৈশ্বিক সরাসরি নিঃসরণের মাত্র ১ শতাংশের জন্য দায়ী, লেবার এমপি জেরোম ল্যাক্সাল বলেছেন, দেশটির কাছে অন্যদের জন্য উদাহরণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার মতে, “এই সপ্তাহে ঘোষিত লক্ষ্যটা গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি চূড়ান্ত সীমা নয়। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব নিট শূন্যে পৌঁছাতে হবে।”
অন্যদিকে, বিরোধী দল এখনো তাদের জলবায়ু নীতি পুনর্বিবেচনা করছে। দলের ভেতরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে যে তারা আদৌ নিট শূন্য লক্ষ্য ধরে রাখবে কিনা। তাদের দাবি, নিঃসরণ কমানোর পথে যেকোনো মূল্যে এগোনো উচিত নয়।
জলবায়ুবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, যদি লক্ষ্য ৭১ শতাংশের নিচে হয় তবে তা রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর বিদ্যমান প্রতিশ্রুতির চেয়ে কম হবে, যা একধরনের পশ্চাদপদতা। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী মহল সতর্ক করেছে, যদি লক্ষ্য ৭০ শতাংশের বেশি হয় তবে রপ্তানি খাতে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
সব পক্ষই এখন অপেক্ষা করছে ঘোষণার জন্য, যা আগামী এক দশক এবং ভবিষ্যতের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ। অনুবাদঃ ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au