মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত গঠনের দাবিতে। তাঁদের দাবি, সরকার যেন অতি দ্রুত একটি অধ্যাদেশ জারি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে। অন্যদিকে, ঢাকা কলেজের একাংশ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী কলেজটিকে অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন। ফলে, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শিক্ষক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী অবস্থান তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। তাঁরা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা বর্জন করে কর্মসূচি পালন করেন এবং গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, নতুবা তাঁরা আরও বড় কর্মসূচির দিকে যাবেন, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখেও হতে পারে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবদুর রহমান বলেন, “প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ করতে কতক্ষণ সময় লাগবে, তা সোমবারের মধ্যেই স্পষ্ট করতে হবে। নাহলে আমরা বড় আকারে আন্দোলনে যাব।”
অন্যদিকে, একই দিনে কলেজের একাংশ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী কলেজটিকে অক্ষুণ্ন রাখার দাবিতে স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ করেন।
প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করছেন সাত কলেজের শিক্ষকেরা। বুধবার তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সামনে মানববন্ধন করে জানান, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে কলেজগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়বে। ভর্তি সুযোগ কমবে, শিক্ষকদের পদ-পদবিও সংকটে পড়বে। বিশেষ করে, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নারীশিক্ষা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
শিক্ষকদের প্রস্তাব হলো—একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের পরিবর্তে পৃথক ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক এবং সাত কলেজকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাখা হোক। এ জন্য তাঁরা “ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়” নামেও আপত্তি করেননি।
প্রস্তাবিত কাঠামো
সরকারের প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোয় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করা হবে।
এ কাঠামোয় ৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে এবং ৬০ শতাংশ সশরীরে নেওয়ার প্রস্তাব আছে। তবে পরীক্ষা সবই অনুষ্ঠিত হবে সরাসরি।
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি কাজ করছে। তিনি জানান, ইডেন মহিলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে উচ্চমাধ্যমিক চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা, যাতে উচ্চমাধ্যমিক স্তর অক্ষুণ্ন থাকে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদ ও কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে অগ্রসর হওয়াই শ্রেয়।
অধ্যাপক ইলিয়াস আরও বলেন, “প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোনো ধরনের পুনর্বিবেচনা হবে কি না, সেটা ইউজিসি সিদ্ধান্ত নেবে।”
ঢাকার সাত সরকারি কলেজ একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালে সেগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সরকার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত জানায়।
সাতটি সরকারি কলেজ হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au