আগামীকাল হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের নারীরা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নারী এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দারুণ আত্মবিশ্বাসে আছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা-এ অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে আগামীকাল…
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার টেলিকম কোম্পানি অপটাস আবারও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের নেটওয়ার্কে ভয়াবহ প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে শত শত জরুরি নম্বর (০০০) কল ব্যর্থ হয়, যার সঙ্গে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সর্বশেষ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় (WA) আরেকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে মৃতের সংখ্যা চার ছাড়াতে পারে।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার (SA) প্রিমিয়ার পিটার মালিনাউস্কাস বলেছেন, এ ধরনের ঘটনায় সরকারের কাছে তথ্য না দেওয়া “বিস্ময়কর” এবং অগ্রহণযোগ্য। অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলসও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অপটাস নিজেরাই জানে না আসলে কী ঘটেছে, যা আরও উদ্বেগজনক।” তিনি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মিডিয়া অথরিটি (ACMA) বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করবে।
অপটাসের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন রু স্বীকার করেছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ফায়ারওয়াল আপগ্রেডের কারণে শুরু হওয়া বিভ্রাট টানা ১৩ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সকাল ৯টার দিকে কোম্পানি প্রথম অভিযোগ পায় যে জরুরি নম্বরে কল করা যাচ্ছে না। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রু জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কল থেকে সমস্যার ইঙ্গিত পেলেও যথাযথভাবে তা গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানি এই ত্রুটির কারণে অন্তত তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তবে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার রজার কুক জানিয়েছেন, পুলিশি তল্লাশির পর আরেকটি মৃত্যুর খবর এসেছে, যা এ বিভ্রাটের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ইতিমধ্যে নিশ্চিত হওয়া তিনজনের মধ্যে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার গাওলার ওয়েস্টের মাত্র আট সপ্তাহ বয়সী এক শিশু এবং অ্যাডিলেডের কুইন্সটাউনের ৬৮ বছর বয়সী এক নারী আছেন। এছাড়া পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাও নিশ্চিত হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় (NT) আটটি জরুরি কল সংযোগ না হলেও সেখানে কোনো মৃত্যু ঘটেনি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানে বিভ্রাট স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ১৫ ঘণ্টা।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ওয়েলস জানিয়েছেন, অপটাস শুধু গ্রাহকদেরই নয়, অস্ট্রেলিয়ানদের “সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়ে হতাশ করেছে।” তিনি বলেন, “এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। জরুরি কল সেবা নিশ্চিত করা সব টেলিকম কোম্পানির আইনগত বাধ্যবাধকতা।”
এ ঘটনা নিয়ে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায় শুধুমাত্র আমি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার পর। জরুরি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করা একেবারেই অযৌক্তিক।”
এ বিভ্রাটের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা নতুন আইন ও ন্যূনতম কর্মক্ষমতার মানদণ্ড নির্ধারণের দাবি তুলেছেন। টেলিকম বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্রেগরি বলেছেন, “২০২৩ সালের নভেম্বরে যে বিভ্রাট হয়েছিল, তখনও একই ধরনের সমস্যা ধরা পড়েছিল। এখন সময় এসেছে সরকার কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে এবং ‘এবার যথেষ্ট হয়েছে’ বলবে।”
অপটাস এর আগে ২০২২ সালে সাইবার হামলার শিকার হয়, যাতে প্রায় ৯৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ানের তথ্য ফাঁস হয়। এরপর ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে টানা ১৪ ঘণ্টার নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের ঘটনায় জরুরি কল সেবা অচল হয়ে পড়ায় কোম্পানিকে ১২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল।
সর্বশেষ ঘটনায় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াতেই প্রায় ১৫০টি ওয়েলফেয়ার চেক করতে হয়েছে, যেখানে অপটাস নিজে সংযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—অপটাস আসলেই কতটা সক্ষম জরুরি কল সেবার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au