আগামীকাল হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের নারীরা
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- নারী এশিয়ান গেমস বাছাই পর্বে গ্রুপের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে দারুণ আত্মবিশ্বাসে আছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা-এ অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে আগামীকাল…
মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- বাঙালি হিন্দু সমাজে মহালয়া মানেই দেবীপক্ষের সূচনা, মায়ের আগমনী বার্তা। সেই শুভলগ্নে গতকাল শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সিডনির ডান্ডাস কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠান, যা দিয়ে শুরু হলো প্রবাসী বাঙালিদের শারদীয় উৎসব।
সন্ধ্যার আসরে চণ্ডীপাঠ, শঙ্খ–উলুধ্বনি আর ভক্তিমূলক সংগীতে ভরে ওঠে পুরো মিলনায়তন। শিল্প নির্দেশনা ও সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিপিএ–র সংস্কৃতি সম্পাদক রাখি রায় (বাবলি)। তাঁর মেন্টরিং–এর মাধ্যমে জ্যোতি বিশ্বাস, সুমিতা দে, জন্মেজয় রায়সহ প্রায় দুই ডজন শিল্পী চণ্ডীপাঠ ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন। পরিবেশনার ভঙ্গি ও আবৃত্তির টোনে দর্শকরা অনুভব করেন মহিষাসুরমর্দিনীর সেই চিরচেনা রেডিও–ঐতিহ্য, যা একসময় বিরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে শ্রুতিমধুর হয়ে উঠেছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তুলে ধরা হয় মহালয়ার তাৎপর্য—দেবীপক্ষ ও পিতৃপক্ষের ব্যাখ্যা, দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা, এবং ‘গজে আগমন, দোলায় গমন’-এর মঙ্গলসংকেত। মূল পর্বে ধারাবাহিক চণ্ডীপাঠ, স্তোত্র পাঠ ও আগমনী–ধর্মী গানের পরিবেশনা দর্শকদের এক ভিন্ন আবহে নিয়ে যায়।
মঞ্চসজ্জা, আলো–ধ্বনি ও অডিও–ভিজ্যুয়ালের নান্দনিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। তরুণ–তরুণীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বিশেষ করে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্টেজ ম্যানেজমেন্ট, অভ্যর্থনা ও দর্শক নির্দেশনায় তাদের ভূমিকা, প্রজন্মান্তরে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বার্তাও স্পষ্ট করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নানা বয়সের মানুষ—শিশু, তরুণ, অভিভাবক ও জ্যেষ্ঠজন—সবার মিলনমেলায় তৈরি হয় উষ্ণ পারিবারিক পরিবেশ। বক্তারা জানান, মহালয়া শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি নৈতিক সাহস, মানবিকতা ও শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক। প্রার্থনায় মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পৃথিবীর মঙ্গলকামনার অন্তর্ভুক্তি এই দর্শনেরই প্রতিফলন।
বিপিএর সভাপতি সুকুমার ভক্ত কৃতজ্ঞতা জানান দর্শক, শিল্পী, প্রযুক্তি দল, স্বেচ্ছাসেবক ও স্পনসরদের। বিশেষ ধন্যবাদ দেওয়া হয় সংস্কৃতি সম্পাদক রাখি রায় (বাবলি)কে, যাঁর নির্দেশনায় শিল্পীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে সক্ষম হন।
সিডনির তেলোপিয়ার এই মহালয়া আয়োজনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—প্রবাসে থেকেও শারদীয় উৎসব কেবল স্মৃতির আবেশ নয়, বরং তা জীবন্ত, প্রাণময় ও প্রজন্ম–সেতু নির্মাণের এক অনন্য উপলক্ষ। চণ্ডীপাঠের গাম্ভীর্য, আগমনী সুরের অনুরণন আর সমবেত প্রার্থনার আবহে প্রবাসী বাঙালিরা ভরে ওঠেন নতুন মঙ্গলালোকে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au