২৪ সেপ্টেম্বর ৮০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশ কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায়নি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
বুধবার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি এই অধিবেশনের সামনে আবার ঘোষণা করছি, ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি এবং করবে না।”
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে ইসরায়েল, অথচ শাস্তি পেতে হচ্ছে ইরানকে। বক্তৃতার সময় তিনি ইসরায়েলি অভিযানে নিহতদের ছবি প্রদর্শন করেন এবং দাবি করেন, এসব হামলায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
তার ভাষায়, “আমরা যখন কূটনৈতিক আলোচনার পথে হাঁটছিলাম, তখনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শহর, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। এটি ছিল কূটনীতির প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি জাতিসংঘের সেই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পর স্থগিত ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। নতুন নিষেধাজ্ঞা আগামী শনিবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইউরোপীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। কেবল আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তারা।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ফরমানও সেই দাবিকে সমর্থন করে। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশগুলো সন্দেহ প্রকাশ করে বলছে, উন্নতমানের কর্মসূচির কারণে চাইলে দ্রুত বোমা তৈরির পথে যেতে পারে ইরান।
পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, “তারা নিজেদের চুক্তির দায়িত্বশীল পক্ষ হিসেবে মিথ্যা উপস্থাপন করেছে এবং ইরানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়েছে। আসলে উদ্দেশ্য ছিল চুক্তি ধ্বংস করা, যেটিকে একসময় তারা নিজেদের বড় অর্জন বলেই প্রচার করেছিল।”
সুত্রঃ এএফপি