মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসা (এইচ–১বি) আবেদনে এক লাখ ডলার ফি আরোপ করায় প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অন্য কয়েকটি দেশ এ পরিস্থিতি থেকে সুযোগ নিতে পারে।
এইচ–১বি ভিসার নতুন নীতি
- প্রতিটি আবেদনে এখন এককালীন এক লাখ ডলার ফি দিতে হবে।
- ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এ নীতি আগে থেকে ভিসাধারী বা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- আগে ভিসা ফি দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলারের মধ্যে ছিল।
- প্রতিবছর ৬৫ হাজার সাধারণ এবং ২০ হাজার উচ্চতর ডিগ্রিধারীকে ভিসা দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে “মেধাসংকট” তৈরি হতে পারে। কারণ, উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক মেধাবী অন্য দেশকে কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ–১বি ভিসার দুই-তৃতীয়াংশই প্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত হয়। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের মতো কোম্পানিগুলো বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল।
গত বছর অনুমোদিত ভিসার ৭১ শতাংশই পেয়েছিলেন ভারতীয়রা, আর ১১ দশমিক ৭ শতাংশ পেয়েছিলেন চীনারা।
যুক্তরাজ্য – প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আকর্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চীন – ১ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে নতুন “কে–ভিসা”, যা বিশেষভাবে এসটিইএম খাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য। এর আওতায় কর্মীরা গবেষণা ও চাকরির সুযোগ পাওয়ার আগে পড়াশোনার সুযোগও পাবেন।
দক্ষিণ কোরিয়া – প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ ক্যাং হুন–সিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আনার পরিকল্পনা করছে দেশটি। আগামী বাজেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
কানাডা – সম্প্রতি স্থায়ী বসবাসের আবেদনে ন্যূনতম স্কোর কমিয়েছে। এছাড়া, এইচ–১বি ভিসাধারীদের জন্য তিন বছর পর্যন্ত সহজ শর্তে কানাডায় স্থানান্তরের পুরোনো কর্মসূচি আবার চালুর কথাও ভাবছে সরকার।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও কানাডা মেধাবী কর্মীদের জন্য নতুন দ্বার খুলে লাভবান হওয়ার পথে রয়েছে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা