মেলবোর্ন, ২৫ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরোধী পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে নতুন এক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আরব ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ২১ দফার এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর মধ্য দিয়ে একদিকে গাজায় সহিংসতা থামানো এবং অন্যদিকে ইসরায়েল ও তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ হোয়াইট হাউসের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর উইটকফ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানান, আলোচনাটি ছিল ফলপ্রসূ এবং এতে অংশ নেওয়া আরব নেতাদের সামনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যদি এই পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়, তবে তা শুধু গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করবে না, বরং ইসরায়েল এবং আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাও অনেকাংশে ফিরিয়ে আনবে। উইটকফ আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন আত্মবিশ্বাসী যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিক থেকে কিছু ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে।
ট্রাম্পের ২১ দফার প্রস্তাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় আটক সব ইসরায়েলি জিম্মির অবিলম্বে মুক্তি, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, গাজার প্রশাসনকে হামাস এবং এর প্রভাবমুক্ত করা এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। পরিকল্পনার এই দিকগুলো প্রকাশ্যে আসলেও পুরো নথি এখনও গোপন রাখা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, পরিকল্পনায় নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কিত একাধিক সংবেদনশীল প্রস্তাবও রয়েছে।
এদিকে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিক সিএনএনকে জানিয়েছেন, আরব নেতারা ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও তারা এতে কিছু নতুন প্রস্তাব যোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব বন্ধ করা, জেরুজালেমের বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, গাজায় যুদ্ধের দ্রুত অবসান নিশ্চিত করা এবং সেখানে আটক সব ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তি। পাশাপাশি গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশে কোনো বাধা না দেওয়ার বিষয়টিও তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। এক কূটনীতিক বৈঠকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সিএনএনকে বলেছেন, “এটি ছিল অসাধারণ এবং অত্যন্ত কার্যকর একটি বৈঠক।”
গাজায় এই যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক সম্মেলনের পর। সোমবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সেই সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সম্মেলনের প্রধান আয়োজক ছিল ফ্রান্স ও সৌদি আরব, যেখানে ইউরোপ ও আরব বিশ্বের বহু দেশ সমর্থন জানায়। সেই সম্মেলনের আবহেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নতুন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন উদ্যোগী হিসেবে তুলে ধরতে পারে, অন্যদিকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে এ পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে মূল বাধা হবে গাজার ভেতরের রাজনৈতিক বাস্তবতা, হামাসের ভূমিকা এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া। তাছাড়া, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমকে ঘিরে বিতর্কিত ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সমাধান না হলে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
সূত্র: সিএনএন