২৫ সেপ্টেম্বর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ৮০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। পরিবর্তে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেওয়া ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না। একইসঙ্গে তিনি ইহুদিবিদ্বেষের নিন্দা করেন এবং ইসরায়েলের দখলদারিত্ব প্রসারের হুমকির মুখে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান জানান।
আব্বাস বলেন, “হামাস শাসন ব্যবস্থায় কোনো ভূমিকা পালন করবে না। তারা এবং অন্য গোষ্ঠীগুলোকে তাদের অস্ত্র ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পণ করতে হবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের সঙ্গে তিনি ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। এ হামলাকে তিনি নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করে না।
ফিলিস্তিনি নেতা জানান, তিনি জাতিসংঘ সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সৌদি আরব, ফ্রান্স ও জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করবেন। এ পরিকল্পনা সাধারণ পরিষদে বিপুল সমর্থন পেয়েছে।
আব্বাস চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গাজায় সংঘটিত ঘটনাগুলো ২০ ও ২১ শতকের মানবিক বিপর্যয়ের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি একে হলোকাস্টের সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি গাজার জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নেতৃত্ব দেবে। আব্বাসের ভাষ্য,
“গাজা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে শাসন ও নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নিতে আমরা প্রস্তুত। হামাস কোনো ভূমিকা রাখবে না, এবং সব গোষ্ঠীকে অস্ত্র জমা দিতে হবে।”
আব্বাস জোর দিয়ে বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনি ইস্যুর প্রতি সংহতি ও ইহুদিবিদ্বেষকে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করি। আমাদের মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে আমরা ইহুদিবিদ্বেষকে অস্বীকার করি।”
তার উত্থাপিত বেশ কয়েকটি প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুমোদিত ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
সুত্রঃ এএফপি