নিজের শর্তে সম্পদ বিতরণ করতে পছন্দ করেন ল্যারি এলিসন। ছবি: অ্যাসোটিয়েটেড প্রেস
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হলেন ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৭৩ বিলিয়ন ডলার।
সম্পদের বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে ওরাকলের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি। বিশেষত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এলিসনের সম্পদ বাড়ার অন্যতম কারণ।
এলিসন ২০১০ সালেই ‘দ্য গিভিং প্লেজ’-এ অংশ নিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, তিনি নিজের ৯৫ শতাংশ সম্পদ দান করবেন। তবে তিনি প্রচলিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে নয়, নিজের শর্তে সম্পদ বিতরণ করতে পছন্দ করেন।
তাঁর প্রধান দান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এলিসন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (EIT)-এর মাধ্যমে। এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ক্যাম্পাস স্থাপন করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও এআই গবেষণার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে।
২০২৭ সালের মধ্যে অক্সফোর্ডে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারে EIT-এর নতুন ও আধুনিক ক্যাম্পাস উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এলিসন ইতিমধ্যেই কিছু উল্লেখযোগ্য দান করেছেন:
- যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে ক্যানসার গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
- বার্ধক্য ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে গবেষণার জন্য এলিসন মেডিকেল ফাউন্ডেশনে প্রায় ১০০ কোটি ডলার দান। তবে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
অন্য অনেক ধনী দাতার তুলনায় এলিসনের দানের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ কম হলেও ‘গিভিং প্লেজ’ এবং EIT-এর মাধ্যমে তাঁর দানের আর্থিক পরিমাণ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এলিসন বলেছেন, তিনি নিজের জীবনের প্রায় সব সম্পদ ধাপে ধাপে সমাজকল্যাণে ব্যয় করবেন, তা হবে তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রণ ও সময়সূচি অনুযায়ী।
EIT-কে ঘিরে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে এলিসন বিজ্ঞানী জন বেলকে গবেষণা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।পরে আগস্টে তিনি ঘোষণা দেন, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তা ওনো বেলের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।এই ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহ পরই জন বেল পদত্যাগ করেন এবং একে ‘অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেন।
ল্যারি এলিসনের এই উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী ধনী দাতাদের মধ্যে সমাজকল্যাণে সম্পদের ব্যবহার নিয়ে নতুন উদাহরণ স্থাপন করছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া