পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর- ভারতের লাদাখে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার হয়েছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুক। লাদাখ পুলিশের একটি বিশেষ দল দুপুরে তাকে আটক করে। এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ এস. ডি. সিংহ জামওয়া
এর আগে শুক্রবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ওয়াংচুকের। তবে তার আগেই তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ঠিক কোন অভিযোগ আনা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
দুই দিন আগে, অর্থাৎ বুধবার, লাদাখের লেহতে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তি ও রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।
ওয়াংচুক লাদাখের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় উপজাতিদের অধিকার সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বিক্ষোভে সহিংসতার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে দায়ী করে জানিয়েছে, ওয়াংচুকের “উসকানিমূলক মন্তব্য” ওই ঘটনার কারণ।
তবে ওয়াংচুক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আন্দোলনটি সর্বদা শান্তিপূর্ণ ছিল। সহিংসতার পরদিনই তিনি নিজের টানা দুই সপ্তাহের অনশন ভঙ্গ করেন।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় “আর্থিক অনিয়মের” অভিযোগে ওয়াংচুকের নেতৃত্বাধীন এনজিও স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ-এর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করে। তবে ওয়াংচুক এই অভিযোগকে “ডাইনি শিকার” আখ্যা দেন এবং বলেন, এটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত তদন্ত।
সহিংসতার পর লেহ অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠন এপেক্স বডি লেহ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, আন্দোলনটি সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল। ২৪ সেপ্টেম্বরের সহিংসতা কিছু উত্তেজিত যুবকের কারণে ঘটেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের আন্দোলন অহিংস। আমরা সব ধর্মের প্রার্থনার আয়োজন করেছি যেন শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো যায়। সোনম ওয়াংচুকের কোনো ভূমিকা ওই ঘটনার সঙ্গে নেই।”
সংগঠনের এক সদস্য জানান, “যুবকেরা হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। সিনিয়র নেতারা বারবার থামানোর চেষ্টা করলেও তারা শোনেনি।”
সূত্র: দ্য হিন্দুস্তান টাইমস