মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নাটকীয় উষ্ণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময় যিনি পাকিস্তানকে “মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া কিছু দেয়নি” বলে সমালোচনা করেছিলেন, সেই ট্রাম্প আজ পাকিস্তানকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে নতুনভাবে দেখছেন।
আফগানিস্তান যুদ্ধ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই—সব সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগী ছিল পাকিস্তান।তবে ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে খুঁজে পাওয়ার পর সম্পর্ক মারাত্মকভাবে শীতল হয়ে যায়।ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে পাকিস্তান নিয়ে অবস্থান পাল্টেছেন; কংগ্রেসে ভাষণে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং সামরিক কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন।
চলতি মাসে ইসলামাবাদে দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়।গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল খনিজ পদার্থ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করবে পাকিস্তান।প্রথম ধাপে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেটস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস (USSM) বিনিয়োগ করবে প্রায় ৫০ কোটি ডলার।খনিজগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিমনি, তামা, সোনা, টাংস্টেন ও বিরল খনিজ।ভবিষ্যতে পাকিস্তানে একটি বিশেষ পরিশোধনাগার তৈরি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভূখণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্ভাবনা রয়েছে।বেলুচিস্তানের রেকো ডিক খনিতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন তামা ও ২ কোটি ৬০ লাখ আউন্স সোনা মজুত রয়েছে বলে ধারণা।এসব সম্পদের বাজারমূল্য আনুমানিক ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি।তবে খনিজ খাত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, এবং অতীতের অনেক ঘোষণাই পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
পাকিস্তানের খনিজ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ মানে চীনের সঙ্গে সূক্ষ্ম প্রতিযোগিতা।বেলুচিস্তানে চীনের বিনিয়োগ স্থানীয় ক্ষোভ ও বিদ্রোহ উসকে দিয়েছে; এবার সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ পাকিস্তানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করলে চীনেরও ঋণ পুনরুদ্ধারে সুবিধা হতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় জনগণকে প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য। অধিকার নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছ মালিকানা ভাগাভাগি ও অবকাঠামো জনগণের কল্যাণে ব্যবহার ছাড়া কেবল বিদেশি বিনিয়োগ পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারবে না।
এই খনিজ চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সুযোগ নয়, বরং এক ধরনের “কৌশলগত করমর্দন”। বৈশ্বিক খনিজ যুদ্ধের দাবায় পাকিস্তান এখন নতুন এক ঘুঁটি, আর ট্রাম্প তার অবস্থান পাল্টে সেই ঘুঁটিকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছেন।
সুত্রঃ আল–জাজিরা