মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য জোরালো তদবির চালালেও বিশেষজ্ঞদের মতে তাঁর পুরস্কার পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, তিনি বৈশ্বিক শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবর্তে বিভাজন সৃষ্টি করছেন।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানকারী নরওয়ের নোবেল কমিটি বাইরের চাপকে অপছন্দ করে। ট্রাম্পের প্রকাশ্য তদবির উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেছেন, পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেননোবেল পুরস্কারের মূলনীতি হলো দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি, যা ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কমিটির এক সদস্য রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্পের অতিরিক্ত প্রচেষ্টা বরং তাঁর সম্ভাবনা নষ্ট করছে।
উপনেতা আসলে তোয়ে জানান, কোনো প্রার্থী চাপ প্রয়োগ করলে সেটি কমিটির কাছে বিরূপ প্রভাব ফেলে।
সাবেক সদস্য হেনরিক সাইস মনে করেন, অতীতে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব শান্তি পুরস্কার পেলেও তাঁরা ভুল বুঝতে পেরে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ট্রাম্প এখনো সে পথে হাঁটেননি।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো যেমন—ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, রেডক্রস, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস অথবা সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস তালিকায় থাকতে পারে।সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) বা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসও বিবেচনায় আসতে পারে, কারণ গত বছর রেকর্ড সংখ্যক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা স্থানীয় সংগঠন যেমন মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের শান্তি কমিটি, ওয়েস্ট আফ্রিকা নেটওয়ার্ক ফর পিসবিল্ডিং বা দারফুরের এল্ডারস অ্যান্ড মিডিয়েশন কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারে।
অ্যাসলে স্ভিন: ট্রাম্পের কোনো সুযোগ নেই, কারণ তিনি যুদ্ধ থামানোর বদলে আগ্রাসী পক্ষকে সমর্থন করছেন।নিনা গ্রেগার (পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, অসলো): শান্তিপ্রিয় প্রেসিডেন্টের মতো আচরণ না করায় ট্রাম্প নোবেলের মানদণ্ডে পড়ছেন না।করিম হাগাগ (SIPRI প্রধান): মানবিক সহায়তা সংস্থা ও শান্তি মধ্যস্থতাকারীরাই বেশি যোগ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ট্রাম্প সত্যিই ইউক্রেন বা গাজার যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখেন, তখনই তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ভাবা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমান নীতির কারণে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর হাতে যাবে না বলেই দৃঢ়ভাবে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সুত্রঃ রয়টার্স