মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিতে কার্যক্রম চালানো কোম্পানিগুলোর হালনাগাদ ডেটাবেস প্রকাশ করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এই তালিকায় ১১ দেশের ১৫৮টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এয়ারবিএনবি, বুকিং ডটকম, মটোরোলা সল্যুশনস ও ট্রিপ অ্যাডভাইজরের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকায় রয়ে গেছে। তবে আলস্টম, ওপোডোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
বেশির ভাগ কোম্পানি ইসরায়েলভিত্তিক।বাকিগুলো কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্ক ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের নীতিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কার্যরত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করে, যাতে তাদের কার্যক্রম মানবাধিকার লঙ্ঘনে অবদান না রাখে।
প্রথমবার তালিকাটি প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মাধ্যমে।
এর সূত্র ২০১৬ সালে মানবাধিকার পরিষদের একটি প্রস্তাব, যেখানে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যবসায় জড়িত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছিল।তালিকায় মূলত নির্মাণকাজ, নজরদারি, উচ্ছেদ, কৃষিজমি ধ্বংসসহ ১০টি নির্দিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রতি বছর তালিকা হালনাগাদ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।২০২৩ সালে মাত্র একবার হালনাগাদ হয়, যেখানে ১১২ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনায় ১৫টি বাদ পড়ে, ৯৭টি থাকে।
ওই বছর নতুন করে ৬৮টি কোম্পানি যুক্ত হয়েছিল, তবে সাতটি পরবর্তীতে বাদ দেওয়া হয়।এবার প্রথমবারের মতো নতুন নামসহ বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করা হলো।
শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে।২০২০ সালে তালিকা প্রকাশের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সমালোচনা করে।
ইসরায়েলের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ একে বলেছিলেন, “ইসরায়েলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাওয়া দেশ ও সংস্থাগুলোর চাপের কাছে জাতিসংঘের লজ্জাজনক আত্মসমর্পণ।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এ ডাটাবেস বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা।
সুত্রঃ এএফপি