লাদাখের রাজধানী লেহেতে সড়কে বিক্ষোভকারীরা হাঁটাহাঁটি করছেন। অদূরে অগ্নিসংযোগ করা পুলিশের গাড়ি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে।ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে ছয় বছর ধরে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবার সহিংস রূপ নিল। গত বুধবার জেন–জি প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন নিহত এবং বহুজন আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান ও বিজেপির আঞ্চলিক কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। পুলিশের পাল্টা গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেকর্তৃপক্ষ জানায়, সংঘর্ষে ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মীও আহত হয়েছেন।
২০১৯ সালে মোদি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে লাদাখকে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে।লাদাখে কোনো আইনসভা নেই, ফলে স্থানীয়দের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের সুযোগও সীমিত।দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংগঠনগুলো সংবিধানিক নিরাপত্তা, রাজ্যের মর্যাদা ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা দাবি করে আসছে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক শান্তিপূর্ণ অনশন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।বুধবার অনশনের ১৫তম দিনে দুজন বৃদ্ধ কর্মীর অসুস্থ হওয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে।ওয়াংচুক সতর্ক করেছিলেন, দাবি না মানলে তরুণদের ক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।গতকাল শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াংচুককে সহিংসতার উসকানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছে।অন্যদিকে আন্দোলনের সমন্বয়করা বলছেন, পাঁচ বছর ধরে প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় মানুষ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
লাদাখ সীমান্তবর্তী এলাকা, পূর্বদিকে চীন আর পশ্চিমে পাকিস্তান।ভারত–চীন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লাদাখে আগে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, অনশন ও দাবি-দাওয়া থাকলেও এবারকার সহিংসতা অঞ্চলটির সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো।
সুত্রঃআল–জাজিরা