মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ফের রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এখন কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তা খরচ না করে আটকে রাখতে পারবে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এই রায় দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
এই মামলায় মূল বিষয় ছিল, প্রেসিডেন্ট কি এমন তহবিল আটকে রাখতে পারেন যা কংগ্রেস ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে, কিন্তু তাঁর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়? যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
ওয়াশিংটন ডিসির জেলা আদালতের বিচারক আমির আলীর দেওয়া এক আদেশে প্রশাসনকে দ্রুত ওই সহায়তা ব্যয়ের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সে আদেশ স্থগিত করে বিচার বিভাগের (Justice Department) আবেদন মঞ্জুর করে।
৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালতের রক্ষণশীল বিচারপতিরা ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেন। তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি রায়ের বিরোধিতা করেন। আদালত জানায়, সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মামলা করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং এখনই ট্রাম্পের বিপক্ষে রায় দিলে তা তাঁর পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
বিচারপতি এলেনা কাগানের নেতৃত্বে দেওয়া ভিন্নমত যুক্তিতে বলা হয়, এই রায় সংবিধানের মূল নীতির পরিপন্থী, যেখানে নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “সংবিধান কংগ্রেসকে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। যদি আইন অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করতে হয়, তবে নির্বাহী বিভাগ সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে পারে না।”
ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে যুক্তি দেয় যে, এই অর্থ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিরোধী, এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কমানোর পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাম্প এর আগে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID) বিলুপ্ত করার উদ্যোগও নেন।
চলতি ২০২৫ অর্থবছর শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। কংগ্রেসের অনুমোদিত এই ৪০০ কোটি ডলার মূলত বৈদেশিক সহায়তা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বিদেশে গণতন্ত্র-প্রচারণা কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত ছিল।
প্রশাসন এই অর্থ ব্যয় ঠেকাতে “পকেট রিসিশন” নামে একটি অস্বাভাবিক কৌশল নেয়—যা মূলত কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ খরচ না করার একটি পদ্ধতি। ট্রাম্প প্রশাসন এ বছর একাধিক নীতিগত বিষয়ে নিম্ন আদালতের বাধা কাটাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে, এবং প্রায় প্রতিবারই সর্বোচ্চ আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।
সহায়তা সংস্থাগুলোর পক্ষে আইনজীবী নিক সানসন বলেন, “এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানিক ভারসাম্য নীতির জন্য এক গুরুতর ধাক্কা। পাশাপাশি, এটি বিশ্বব্যাপী দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ মানবিক প্রভাব ফেলবে।”
জেলা আদালতের বিচারক আমির আলী ৩ সেপ্টেম্বর রায়ে বলেছিলেন, প্রশাসন ইচ্ছেমতো অর্থ আটকে রাখতে পারে না এবং কংগ্রেসের অনুমোদিত ব্যয় আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে বাধ্য।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, “যে অর্থের রিসিশনের অনুরোধ করা হয়েছে, সেটি ব্যয় করা আত্মবিরোধী এবং নির্বাহী শাখার জন্য অর্থহীন হবে।”
ট্রাম্পের বাজেট পরিচালক রাসেল ভাউগট বলেন, প্রেসিডেন্ট ৪৫ দিনের জন্য অর্থ আটকে রাখতে পারেন, এবং ওই সময় পার হয়ে গেলে অর্থবছর শেষ হয়ে যাবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে এই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।
কিছু আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ এভাবে আটকে রাখার ঘটনা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ডি.সি. সার্কিট কোর্ট ৫ সেপ্টেম্বর ২-১ ভোটে প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল, পরে প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। ৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ করে এবং আলীর রায় স্থগিত রাখে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স