পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের একটি বসতি এলাকা। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে মুনাফা অর্জনকারী ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। শুক্রবার প্রকাশিত জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও আবাসন সেবা প্রদানকারী বড় প্রতিষ্ঠান যেমন—
- এয়ারবিএনবি
- বুকিং ডটকম
- এক্সপেডিয়া
- ট্রিপ অ্যাডভাইজার
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব কোম্পানি এমন এলাকায় ব্যবসা করছে, যেগুলোকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) অবৈধ ঘোষণা করেছে।
২০২৩ সালের জুনের পর সর্বশেষ হালনাগাদে ৬৮টি নতুন কোম্পানি যুক্ত হয়েছে।৭টি কোম্পানির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনলাইন ট্রাভেল কোম্পানি ওপোডো এবং স্পেনের ইড্রিমস।অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, আবাসন, খনিজ ও খনি খাতের সঙ্গে জড়িত।আরও ৩০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বলেছেন—
“সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তাদের কার্যক্রম যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ না হয়।”
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা সরকারি সমর্থন নিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, জমি দখল করছে।সাধারণ মানুষকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা বাড়ছে।মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নিধন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে ইসরায়েল সেখানে ক্রমাগত বসতি সম্প্রসারণ করে আসছে।বসতিগুলো রক্ষায় সড়ক, প্রাচীর ও চেকপোস্ট নির্মাণ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় চলমান সংঘাত এবং পশ্চিম তীরে দখল বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ বাড়ছে।
জাতিসংঘের এই তালিকা প্রকাশ আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নীতির বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা