পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে সব অমীমাংসিত ইস্যুতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
ভাষণে শরিফ বলেন, “পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে যৌক্তিক, বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনায় প্রস্তুত। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য উসকানিমূলক নয়, বরং সক্রিয় নেতৃত্ব প্রয়োজন।”
এর আগের দিন তিনি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। আসিম মুনির এ সময় বলেন, গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতা করায় ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ভাষণে শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “ট্রাম্প যদি সময়মতো ও দৃঢ়ভাবে হস্তক্ষেপ না করতেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনত।” তিনি ট্রাম্পকে ‘সাহসী ও দূরদর্শী’ নেতা হিসেবে অভিহিত করেন।
গত এপ্রিলের শেষের দিকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুক হামলায় ২০ জনের বেশি নিহত হয়। নয়াদিল্লি এ ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। এর পর মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেন। চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়।
শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ভারত ও পাকিস্তান মতপার্থক্য সমাধানে একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।
শাহবাজ শরিফ শুক্রবারের ভাষণে ভারতের হামলাকে “আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, পাকিস্তান এতে জয়ী হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ভারত দম্ভ নিয়ে হামলা চালিয়েছিল, কিন্তু আমরা তাদের লজ্জিত করে ফিরিয়ে দিয়েছি।”
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইছে, তবে ভারত বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নয়াদিল্লির দাবি, পুরো হিমালয় অঞ্চল ভারতের অংশ।
সুত্রঃ এএফপি