শিক্ষা

যুক্তরাষ্ট্রের এফ–১ ও এইচ–১বি ভিসা নীতি: শিক্ষার্থীদের সামনে কী সংকট?

  • 1:27 pm - September 28, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৩৩ বার
ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও চাকরির স্বপ্নপূরণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিসা হলো এফ–১ (শিক্ষার্থী) ও এইচ–১বি (কর্মসংস্থান)। তবে সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের খবরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীরা, যাঁদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ খুঁজে থাকেন।

এফ–১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সীমিত সময় কাজ করতে পারেন এবং স্নাতকোত্তর শেষে ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (ওপিটি) কর্মসূচির আওতায় কিছু সময় চাকরির সুযোগ পান। তবে নতুন নীতি অনুযায়ী, ওপিটির মেয়াদ কমানো ও নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার কমিয়ে আনার চিন্তা চলছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়া অনেকের জন্য ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

শিক্ষা শেষে চাকরি পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো এইচ–১বি ভিসা। প্রতিবছর সীমিত সংখ্যক কোটা থাকায় প্রতিযোগিতা আগেই ছিল তীব্র। এখন নতুন নীতির আওতায় আবেদনের ফি বাড়ানো ও যোগ্যতার মানদণ্ড কঠোর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণার মতো খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে।

প্রভাব কতটা বড় হতে পারে

  • আর্থিক চাপ: ভিসার ফি ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প দেশ বেছে নিতে পারেন।
  • মেধাপাচার: যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে দক্ষ শিক্ষার্থীরা ইউরোপ, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে চলে যাবেন।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় অর্থনৈতিক অবদান রাখেন। তাঁদের সংখ্যা কমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতি কঠোর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। ধনী পরিবারগুলো বিকল্প দেশ বেছে নিলেও মেধাবী কিন্তু সীমিত সামর্থ্যের শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন হারাবেন।

যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে এফ–১ ও এইচ–১বি ভিসা নীতির কঠোরতা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র কি তার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দরজা সংকুচিত করবে, নাকি বৈশ্বিক মেধাকে ধরে রাখবে?

 

এই শাখার আরও খবর

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢেকে গেছে আকাশ, জাকার্তায় স্থগিত ৩০১ ফ্লাইট

ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বিপুল পরিমাণ ছাই। এর প্রভাবে রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আগ্নেয় ছাইয়ের…

মণিপুরে যৌথ অভিযানে দুই সশস্ত্র সদস্য নিহত, আহত দুই

মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মির (ইউকেএনএ) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন…

নড়াইলে ৬ শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

নড়াইল সদর উপজেলায় ছয় শিশুছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের করা মামলার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা থেকে…

দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, পেইং গেস্ট পড়ুয়াদের আটকে পড়ার আশঙ্কা

দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় হঠাৎ ধসে পড়েছে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে…

তিন দশক পরও সালমান শাহকে ঘিরে আগ্রহের রহস্য কী?

“আমার জীবনের একটা বড় আফসোসের জায়গা হলো সালমান শাহকে নিজের চোখে দেখতে না পারা। উনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই গিয়ে দেখা করতাম। এতটা ভালো লাগে সালমান…

অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় টাস্কফোর্স গঠন করল ইরান

চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ টাস্কফোর্স গঠন করেছে ইরান। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত শনাক্ত করে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au