মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও চাকরির স্বপ্নপূরণে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিসা হলো এফ–১ (শিক্ষার্থী) ও এইচ–১বি (কর্মসংস্থান)। তবে সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের খবরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীরা, যাঁদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ খুঁজে থাকেন।
এফ–১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সীমিত সময় কাজ করতে পারেন এবং স্নাতকোত্তর শেষে ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (ওপিটি) কর্মসূচির আওতায় কিছু সময় চাকরির সুযোগ পান। তবে নতুন নীতি অনুযায়ী, ওপিটির মেয়াদ কমানো ও নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার কমিয়ে আনার চিন্তা চলছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়া অনেকের জন্য ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
শিক্ষা শেষে চাকরি পাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো এইচ–১বি ভিসা। প্রতিবছর সীমিত সংখ্যক কোটা থাকায় প্রতিযোগিতা আগেই ছিল তীব্র। এখন নতুন নীতির আওতায় আবেদনের ফি বাড়ানো ও যোগ্যতার মানদণ্ড কঠোর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণার মতো খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে।
প্রভাব কতটা বড় হতে পারে
- আর্থিক চাপ: ভিসার ফি ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বিকল্প দেশ বেছে নিতে পারেন।
- মেধাপাচার: যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে দক্ষ শিক্ষার্থীরা ইউরোপ, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে চলে যাবেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় অর্থনৈতিক অবদান রাখেন। তাঁদের সংখ্যা কমলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতি কঠোর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। ধনী পরিবারগুলো বিকল্প দেশ বেছে নিলেও মেধাবী কিন্তু সীমিত সামর্থ্যের শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন হারাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে এফ–১ ও এইচ–১বি ভিসা নীতির কঠোরতা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্র কি তার শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দরজা সংকুচিত করবে, নাকি বৈশ্বিক মেধাকে ধরে রাখবে?