মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সমাধানে অগ্রগতির আভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের আগের দিন রবিবার নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, “সবাই একসঙ্গে বিশেষ কিছুর জন্য প্রস্তুত। আমাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে মহত্ত্ব অর্জনের বাস্তব সুযোগ রয়েছে। প্রথমবারের মতো সবাই একমত—আমরা এটি সফলভাবে সম্পন্ন করব।”
এর আগে শুক্রবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে গাজা নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একই দিন জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা তিনি রুখে দেবেন এবং হামাসের বিরুদ্ধে “কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত” যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ একাধিক পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সোমবার নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ধারণা করা হচ্ছে, গাজা ইস্যুতে সম্ভাব্য সমঝোতা বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে ভয়াবহ হামলা চালায়, যাতে এক হাজার ২১৯ জন নিহত হন—তাঁদের বেশির ভাগই বেসামরিক। ওইদিন ২৫১ জনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়, যাদের মধ্যে এখনও ৪৭ জন গাজায় আটক আছেন। এদের মধ্যে ২৫ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনারা।
প্রতিশোধমূলক ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় অন্তত ৬৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এ কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলকে মানবিক বিপর্যয়ের জন্য কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এখন দৃষ্টি সবারই হোয়াইট হাউস বৈঠকের দিকে—ট্রাম্পের ইঙ্গিত দেওয়া সেই ‘বিশেষ কিছু’ আসলে কী হতে যাচ্ছে, সেটিই জানার অপেক্ষা।
সুত্রঃ এএফপি