জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তানের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্বকে নতুন করে সতর্ক করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসলামাবাদ এখনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে এবং এ কারণে শুধু দক্ষিণ এশিয়াই নয়, পুরো বিশ্বই হুমকির মুখে রয়েছে।
ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান বহু বছর ধরে সীমান্ত অতিক্রম করে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন ও আশ্রয় দিয়ে আসছে। কাশ্মীর উপত্যকায় বারবার সহিংসতা ছড়ানো, ভারতের অভ্যন্তরে হামলা এবং আফগানিস্তানসহ অন্যান্য অঞ্চলে জঙ্গিদের সক্রিয় রাখার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করেছে দিল্লি। ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষায়, পাকিস্তানের এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “পাকিস্তান তার মাটিকে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে পরিণত করেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।” ভারত জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থাকে আহ্বান জানিয়েছে, যেন পাকিস্তানের ওপর বর্ধিত চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও প্রশিক্ষণ শিবিরগুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।
ভারত আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘ সময় এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় ছিল এবং বহু প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদী অর্থায়ন বন্ধে পুরোপুরি সফল হয়নি। দিল্লির দাবি, ইসলামাবাদ শুধু কাগুজে সংস্কার দেখিয়েছে, বাস্তবে কার্যকর কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলি ও অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ এনেছে ভারত। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ভারত স্পষ্ট করে বলেছে, যদি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে, তবে এর খেসারত গোটা বিশ্বকেই গুনতে হবে। কারণ পাকিস্তানি মাটিতে বেড়ে ওঠা নেটওয়ার্কগুলো কেবল ভারতকেই নয়, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও হামলা চালিয়েছে।
বিশ্ব সম্প্রদায়ের অনেক দেশ ভারতের উদ্বেগকে যৌক্তিক বললেও, পাকিস্তান বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ দাবি করছে, তারা সন্ত্রাস দমনে বহু পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভারত ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে।
এখন প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের এই নতুন সতর্কবার্তা কি আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বড় কোনো চাপ তৈরি করবে? নাকি আগের মতোই বিষয়টি রাজনৈতিক বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে?
সুত্রঃ এএফপি