মেলবোর্ন, ২৯ সেপ্টেম্বর- শরতের আকাশে তুলোর মতো সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, কাশফুলে ভরা মাঠ যেন সোনালি আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে, আর ঢাকের স্বর পুরো আবহকে উজ্জীবিত করছে। বছর ঘুরে আবার এলো মুম্বাইয়ের দুর্গাপূজার মৌসুম। আর তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে আকর্ষণীয় পূজা হলো মুখোপাধ্যায় পরিবারের পূজা।
প্রতি বছর এ পূজাতে ভিড় জমান বলিউডের অগণিত তারকা, আসেন অসংখ্য ভক্ত। বরাবরের মতো এবারও আছেন দুই প্রিয় মুখ কাজল ও রানি মুখার্জি। পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে আবারও একসঙ্গে হাজির তারা। পূজার প্রথম দিনে প্যান্ডেলে ঢুকতেই ভক্তদের চোখে ধরা পড়ল সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
কাজল, অফ-হোয়াইট শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজে সেজে, যেন নতুন বর্ণের মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন। আর ঠিক পাশেই সাদা জামদানিতে রানি, যিনি নিঃসন্দেহে প্যান্ডেলের রানী। দুজনের মুখে একই রকম হালকা টিপ, কমপ্যাক্ট গয়না, আর সব সময়কার মতো অনাবিল হাসি। প্রতিমার সামনে বসে প্রার্থনা, ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, হেসে ছবি তোলা। সবই যেন এক অভিনব মিলনমেলার অংশ।
সামাজিক মাধ্যমে এই মুহূর্তগুলো ছড়িয়ে পড়তেই কমেন্টের বন্যা শুরু হয়। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমার অঞ্জলি আর টিনার সেই বন্ধুত্ব, সেই হাসি যেন আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ভক্তদের মনে, এক টুকরো অতীত আবার ফিরে এসেছে।
রানি শুধুই নায়িকা নন; তিনি এই পূজার অন্যতম আয়োজক। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজের তদারকি, সবকিছুতে তাঁর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর কাজলও পরিবারের ঐতিহ্যের এই মিলনমেলায় রানির পাশে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছিলেন।
তবু এবারের পূজার আবহ কেবল আনন্দময় নয়; বরং এক মৃদু শূন্যতার ছোঁয়া ছিল। কারণ কাজল-তানিশার কাকা দেব মুখার্জি, যিনি পূজার প্রতিটি মুহূর্তের প্রাণবন্ত নেতৃত্ব দিতেন, চলতি বছরের শুরুতে প্রয়াত হয়েছেন। কাকাকে ছাড়া প্রথম পূজা। তবু যেন তাঁর স্মৃতি ভরিয়ে রেখেছে প্যান্ডেলকে। কাজল ও রানির উপস্থিতি সেই শূন্যতা পূর্ণ করে তুলেছে, ঐতিহ্যকে জড়িয়ে ধরে নতুন এক আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।
ঢাকি, হাসি, প্রার্থনা আর স্মৃতির মেলবন্ধন। মুখার্জি বাড়ির পূজা এই মুহূর্তে যেন এক গল্প বলছে– যেখানে অতীত আর বর্তমান, আনন্দ আর শূন্যতা, সবই মিশে গেছে এক অদ্ভুত সুন্দর আবহে।